ঝালকাঠি জেলা আ.লীগের সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতা সরদার শাহ আলমের সাথে মধ্য ছাত্রলীগ নেত্রীর গোপন অভিসারের কথা প্রকাশ পাওয়ার পরে বেকায়দায় পরেছে ঝালকাঠির ক্ষমতাশীন দলের নেতা-কর্মীরা। শাহ আলমকে লক্ষ্য করে একের পর এক ‘বিস্ফোরক’ বক্তব্য গণমাধ্যমে যখন প্রকাশ পাচ্ছে তখন যেন কোন ভাষাই খুঁজে পাচ্ছে না নেতাকর্মীরা। উল্টো সমালোচনায় মুখোর হতে দেখা গেছে অনেককেই। টক অব দ্যা কান্ট্রি এই আলোচনা রুখতে সরদার শাহ আলম একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল বলে শোনা যায়।
তবে অন্যান্য নেতারা সেই সংবাদ সম্মেলনে সায় না দিয়ে পাশ কাটিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সরদার শাহ আলম সংবাদ সম্মেলনের কথা জানানোর পর দলীয় নেতার জানান তা বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরে। বর্তমানে অন্য নেতারা বরিশালে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকায় সম্ভব নয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ওদিকে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ কিছু বলতে রাজি হয়নি। একইসাথে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার শাহ আলমের সাথে মুঠোফোনে গতকাল বিকেল সোয়া চারটায় চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। একান্ত কাছের মানুষ ছাড়া কারও সাথে কথা বলছেন না বা নিজের অবস্থান জানাচ্ছেন না। ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সূত্র নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অফিস করেননি।
নির্ভরযোগ্য অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, সরদার শাহ আলমের ঘটনাটি চাউর হয়ে যাওয়ার পরে বিষয়টি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে সরদার শাহ আলমকে ঢাকায় ডেকে পাঠান শিল্পমন্ত্রী। যদিও এমন কোন তথ্য জানা নেই ঝালকাঠী আ.লীগের নেতাদের বলে ছাফ জানিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য ওই সূত্রের দাবী, টেলিফোনে সরদার শাহ আলমকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সামলানো এবং দল নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ধারণা করা হচ্ছে, ছাত্রলীগ নেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য এবং সরদার শাহ আলমের নিস্পৃহ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা প্রতিয়মান হয়।
খোদ ঝালকাঠি আ.লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ঝালকাঠি আ.লীগকে ইমেজ সংকটে ফেলায় দলের হাই কমান্ড সরদার শাহ আলমের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একের পর এক তীর্যক মন্তব্য করে উত্তপ্ত করে রেখেছেন। সেখানে একাধিক ব্যবহারকারী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, জেলা আ.লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেত্রীকে যৌনদাসি করে রাখার বিষয়ে দলের অবস্থান নিয়ে। পাশাপাশি ফারজানা খান নাদিরার সর্ম্পকেও সমালোচনায় মুখোর। একাদিক ফেসবুক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে আলোচিত ফারজানা খান নাদিরা ‘বিপদের সময়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে পাচ্ছেন না’ এমন ইঙ্গিত করে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। তবে কিছুক্ষণ পরে সেই স্ট্যাটাসটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply