নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চলতি বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) পাসের হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭৯ দশমিক ৪১।
অপরদিকে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৮৮ জন। গত বছর পেয়েছিল ৩ হাজার ১১৩ জন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম। চলতি বছর ৯৩ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭২ হাজার ৩৫৮ জন।
তিন বছর আগে ২০১৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার হয়েছিল ৯০.৬৬।
তারপরের বছর ২০১৫ সাল থেকে পাসের হার কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে কমতে থাকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমার এ ধারাবাহিকতা ২০১৬ সালের পর চলতি ২০১৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষাও অব্যাহত থাকল।
গত তিন বছর ধরে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, দুই বছর আগেও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ছিল না। যে কারণে পরীক্ষকরা যথাযথ মূল্যায়ন না করেই অধিক নম্বর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দিতেন। এখন উত্তরপত্র মূল্যায়ন পুরোপুরি নিয়ম-কানুনের মধ্যে আনা হয়েছে। এ কারণে পাসের হার কমতে পারে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, শারীরিক শিক্ষা এবং ক্যরিয়ার শিক্ষা নামক দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা এ বছরেই প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ঘাটতি থাকায় ওই দুটি বিষয়ে পাসের কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। যার প্রভাব মোট পাসের হারের ওপর পড়েছে বলেও ধারণা করছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
বরিশাল বোর্ডের ফল সূত্রে জানা গেছে, উত্তীর্ণ পরীক্ষর্থীদের মধ্যে জিপিএ ৪-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৯৫০ জন, জিপিএ ৩.৫-৪ পেয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৪ জন, জিপিএ ৩-৩.৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ১৮৭ জন, জিপিএ-২-৩ পেয়েছে ৯ হাজার ৮২৭ জন এবং জিপিএ ১-২ পেয়েছে ২৭২ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি পাস করেছে। এ বিভাগে ২৩ হাজার ৪৯২ জনের মধ্যে পাস করেছে ২১ হাজার ৩৭৮ জন। পাসের হার ৯১ ভাগ। মানবিক বিভাগে ৩৯ হাজার ৯৫৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৭ হাজার ৫৭৭ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ০১।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩০ হাজার ২২৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৩ হাজার ৪০৩ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪৩।
তবে এবারও ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে। বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এবারে ৯৩ হাজার ৬৭৬ পরীক্ষার্থ অংশ নেয়। যার মধ্যে ৪৬ হাজার ৩১৫ ছাত্রী এবং ৪৭ হাজার ৩৬১ ছাত্র। ২ হাজার ২৮৮ জিপিএ-৫ এরমধ্যে ১২শ ৫৫ পেয়েছে ছাত্রীরা আর ১ হাজার ৩৩ পেয়েছে ছাত্ররা।
আর জেলা ভিত্তিক পাসের বেলায় প্রথম স্থানে অবস্থান ঝালকাঠি জেলা। পাশের হার ৮২ দশমিক ৭৮ নিয়ে ফলাফলে সবার আগে রয়েছে ঝালোকাঠি জেলা। ৮০ দশমিক ১৪ হার নিয়ে দ্বীতিয় স্থানে বরিশাল জেলা এবং শতকরা ৭৮ দশমিক ৫৯ হার পাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে বয়েছে পিরোজপুর জেলা। এবারে ঝালকাঠির ৩০টি স্কুলে সবাই পাশ করেছে। এরপর বরিশালের ২৮টি, পটুয়াখালীর ৪টি, বরগুনার ৬টি, পিরোজপুরের ১৩টি ও ভোলার ৬টি মিলে মোট ৮৭টি স্কুলের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
বরিশাল ক্যাডেট কলেজের ৫৪ পরীক্ষার্থীরা সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ১ হাজার ৪১৪ স্কুলের মধ্যে শতকরা ১০ জন পাস করেছে ৫টি স্কুলে, শতকরা ১১ থেকে ২০ ভাগ পাস করেছে ১১টি স্কুলে, শতকরা ২১ থেকে ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে ১৬৩ স্কুলে।
বাকিরা শতকরা ৫০ থেকে ১০০ ভাগ পাসের মধ্যে রয়েছে। বিভাগ ওয়ারি ফলাফলে মেয়েরা সব বিভাগে এগিয়ে রয়েছে ছেলেদের চেয়ে। জিপিএ-৫ মেয়েরা পেয়েছে বেশি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply