রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের হালিমা খাতুন ফাজিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে মাত্র ৫ মাসের মধ্যে দু’বার বাল্য বিবাহ দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রীর বাবা মোঃ বাদল মিয়া পশ্চিম লবনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা, সে পেশায় একজন শ্রমিক।
প্রায় ৫ মাস পূর্বে বাদল মিয়া বাল্য বিবাহ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার মেয়েকে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের মোঃ বাদশা সিকদারের ছেলে মোঃ ইমরান সিকদারের সাথে তার স্ত্রীর পরামর্শে বিবাহ দেয় বলে জানান স্থানীয়রা।
পরে মেয়ের পরিবার তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করে মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ি না পাঠিয়ে কয়েক মাসের মাথায় মেয়েকে দিয়ে ডিভোর্স’র কাগজ পাঠায় জামাতার বাড়িতে। এলাকাবাসী জানান বাদলের পরিবার তাদের অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে গত কয়েকদিন আগে পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠি উপজেলার মাগুরা গ্রামের মোঃ হিরণ নামের এক ছেলের সাথে পূণরায় বাল্য বিবাহ দেয় । এনিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হুমাযুন কবির জানান, নাবালক মেয়েটিকে প্রথম বিবাহ দেয়ার সময় সে সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা বার বার নিষেধ করার পরেও ওই পরিবারটি গোপনে তাদের মেয়েকে বাল্য বিবাহ দেয়। সেখান থেকে স্বর্নালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালপত্র হাতিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করিয়ে পূণরায় মেয়েটিকে বিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে প্রথম স্বামী ইমরানের পরিবার দাবী করেন মেয়ের পরিবার থেকে কেউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটালেও, বিবাহের সময় তাদের পক্ষ থেকে মেয়েকে দেয়া স্বর্ণলংকারসহ অন্যান্য মালামাল রেখে দেয় তারা।
এসব বিষয়ে জানতে সরেজমিনে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ মেয়ের বাড়িতে গেলে আগে থেকেই সংবাদ পেয়ে তারা ঘরে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খলিলুর রহমান জানান বিষয়টি তারা জানতে না পারায় বাল্য বিয়ে বন্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply