অনলাইন ডেস্ক// গণগ্রেফতারের মুখে ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেয়া নিয়ে সংকটে পড়েছে বিএনপি। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি আসনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।যদিও বিষয়টি নিয়ে দলটির নেতারা খুব একটা চিন্তিত নন। একাধিক তালিকা এবং অপেক্ষমাণ রেখে সংকট সামাল দেয়া যাবে বলে মনে করছেন তারা। বরং ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা যাবেন কি না, সেটা নিয়েই তাদের শঙ্কা।ধানের শীষের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর অভিযোগ, দু’দিন ধরে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। ভোটের দিন কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য তারা হুমকি দিচ্ছে। কেন্দ্রে গেলে অথবা ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট হলে হাত-পা ভেঙে দেয়া এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে যাবেন কি না, সেটাই এখন শঙ্কা বিএনপির। ছয় জেলার ২১টি আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৭৭টি। ভোটকক্ষ ১৩ হাজার ৩৯৭টি। এ হিসাবে এসব কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পোলিং এজেন্ট দিতে হবে বিএনপিকে। বরিশাল-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘সাড়ে ১৩ হাজার কেন, প্রয়োজনে এক লাখ এজেন্টও দিতে পারবে বিএনপি। কিন্তু সমস্যা হল, পুলিশের গণগ্রেফতার। কয়েক দিনে কেবল বরিশাল সদর আসনে কয়েক শ’ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।এখনও গণহারে চলছে গ্রেফতার অভিযান। দিনে-রাতে নেতাকর্মীদের বাড়ি হানা দিচ্ছে পুলিশ। এ রকম অবস্থায় পোলিং এজেন্ট যাদের করা হবে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। দেখা যাবে, পোলিং এজেন্টদের তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়ার পরপরই ওই তালিকা ধরে গ্রেফতার অভিযান শুরু করবে পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে পোলিং এজেন্ট নিয়ে কী ভাবছেন- জানতে চাইলে জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বলেন, এজন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। পোলিং এজেন্টদের তিন থেকে চারটি তালিকা তৈরি করছি। এক এজেন্টকে গ্রেফতার করলে বিকল্প তালিকা থেকে নতুন এজেন্ট দেব।পিরোজপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল বলেন, আমার এলাকায় কেন্দ্র ৮১। ভোটকক্ষ ৪০২। সেই হিসাবে ৪০২ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু সেই তালিকার ২৪ জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বে যেসব নেতা থাকবেন বা যাদের পোলিং এজেন্ট দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের এখন টার্গেট করে গ্রেফতার করছে পুলিশ। একই সঙ্গে চলছে প্রার্থীকে একা করার কৌশল। তবে আমরাও শেষ না দেখে মাঠ ছাড়ব না। পোলিং এজেন্টদের একাধিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ ধরবে আর আমরা সেই শূন্যস্থান পূরণ করব। দেখি ওরা কতজনকে ধরতে পারে। পোলিং এজেন্ট ঝামেলা সামাল দেয়ার মতো প্রস্তুতি ও কৌশল থাকলেও একটি বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত বিএনপি প্রার্থীরা। সেটা হল- ধানের শীষের সমর্থক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যেতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হুমকি। পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, দু’দিন ধরে রাতের অন্ধকারে কর্মী ও সমর্থক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা। ভোট কেন্দ্রে না যেতে তাদের সরাসরি হুমকি দেয়া হচ্ছে। পুলিশকে সরাসরি দায়ী করে মোশাররফ বলেন, এটা কেমন নির্বাচন যে পুলিশ বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে? সবকিছু দেখেশুনে মনে হয় যেন ভোটাররাই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শত্র“।বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন সান্টু বলেন, গণগ্রেফতারের পাশাপাশি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যেতে মঙ্গলবার থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এমনিতেই নির্বাচনী মাঠে আমাদের নামতে দেয়া হয়নি। ১৭-১৮ দিনে মাত্র চারদিন ঘর থেকে বের হয়েছি। এর মধ্যে তিনবার আমার ওপর হামলা হয়েছে। জীবন বাঁচাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি করেছি। সেটাও অন্যায় হয়েছে! এখন আমরা কী করব? তিনি বলেন, আমার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ জব্দ করেছে। অথচ কোনো কাগজপত্র দেয়নি। তিনি বলেন, একতরফা নির্বাচন করে জোর করে ক্ষমতায় থাকতে যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই করছে সরকার। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, এ অঞ্চলের প্রায় সব আসন থেকে ধানের শীষের সমর্থক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে গেলে হাত-পা ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশেরও ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পটুয়াখালী-৪ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে ভোটের দিন সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন কি না, তা নিয়েই আমরা শঙ্কায় আছি। বিএনপির নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, দেশের জনগণ এখন আর বিএনপির সঙ্গে নেই। এটি বিএনপির নেতারাও জানেন। এ কারণে অভিযোগের পাহাড় গড়ে তারা সবার সহানুভূতি আদায় করতে চাইছে। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হবে না। ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ মানুষ কেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনবে। এক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা অভিযোগ করে লাভ হবে না।সূত্র : যুগান্তর
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply