, ,

শিরোনাম :
সুগন্ধা নদীর ভাঙন : নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে বাবুগঞ্জ বাজার-বিমানবন্দর পটুয়াখালীর গলাচিপায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩৫ লিটার চোলাই মদ ও গাঁজাসহ পিতা-পুত্র আটক একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার নাশকতার মামলায় আ’লীগের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, বাকেরগঞ্জে চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের নাপা ছাড়া মিলছে না ডেঙ্গুর চিকিৎসা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ মেহেন্দিগঞ্জে ভয়াবহ নদীভাঙন, কয়েক দিনে বিলীন অসংখ্য ঘর ও দোকান বরিশাল নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিসিসি’র পাশে ওয়ার্ল্ড ভিশন
বরিশাল হালিমা খাতুন স্কুলের শিক্ষক নাসিমের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

বরিশাল হালিমা খাতুন স্কুলের শিক্ষক নাসিমের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

dynamic-sidebar

নিউজ ডেস্ক :: বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক এনামুল হক নিজামী নাসিমের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজের ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে স্কুলটির নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি ঘটান ওই শিক্ষক। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে দিলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এমনকি শিক্ষক নাসিমকে রক্ষায় গত শনিবার রাতে বিদ্যালয়টিতে গোপন বৈঠক করেছে কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, নাসিম গোরাচাদ দাশ রোডের কালভার্ট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসার নিচতলায় কয়েকমাস ধরে হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কোচিং করান। গত সপ্তাহের বুধবার কোচিং শেষ হলে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পড়ার অজুহাতে কৌশলে কোচিং সেন্টারে রেখে দেন। অন্য ছাত্রীরা চলে গেলে ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন শিক্ষক নাসিম। এ সময় ছাত্রীটি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই ছাত্রীর সহপাঠী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক নাসিম একাধিক শিক্ষার্থীকে এ ধরণের শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে। প্রায়ই অশ্লীল ও কু-প্রস্তাব দেয়াসহ জোরপূর্বক কোচিং করনোর অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা বিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রীরা জানতে পেরে তারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ স্বরুপ ‘নাসিম স্যার থেকে সাবধান এমন শ্লোগান’ কাগজে লেখে তা দেয়ালে সেটে দেয়। তবে শনিবার রাতে এ ধরণের লেখা নিজেই মুছে ফেলেন শিক্ষক নাসিম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক ও তার মেয়ে জানান, কয়েকদিন পূর্বে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে প্রমোশন দেয়ার কথা বলে এক শিক্ষার্থীকে বিকেলে কোচিং সেন্টারে আসতে বলেন নাসিম। ওই কোচিংয়ে তার একটি পরীক্ষা নেয়া হবে বলে শিক্ষার্থীকে জানানো হয়। ছাত্রীটি কোচিংয়ে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। এরপর নাসিম তাকে কু প্রস্তাব দেয়। রাজি না হলে প্রমোশন দেয়া হবে না বলে জানায়।

এ ঘটনা ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করলে অন্যান্য ভুক্তভোগীরা তাদের অভিভাবকদের জানান। এরপর প্রধান শিক্ষক মোঃ ফখরুজ্জামানকে জানালে তিনি লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। পরে ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ করলেশিক্ষক নাসিম কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে জোর করে তার পক্ষে একটি পাল্টা লেখা তৈরি করানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে ঘটনা ধাপাচাপা দিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে তোলপার চললেও বিদ্যালয়টি রোজার বন্ধ হওয়ায় বিষয়টি অনেকটা আড়ালে চলে যায়। এরই মধ্যে শনিবার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক নাসিমসহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বৈঠক করে এ ঘটনা সমাধানের নামে ভুক্তোভোগীদের ‘ম্যানেজ মিশনে’ নামেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফখরুজ্জামান বলেন, আমি তো কিছু জানি না।

তার নিকট অভিযোগ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আসলে একটা অভিযোগ আমার কাছে দেয়া হয়েছে। আমি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ করতে বলেছি এবং সহকারি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টা দেখতে বলেছি।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক এনামুল হক নিজামী নাসিমের মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে বলেন, আমার দুই ভাই র‌্যাবে চাকরি করে। তখন তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় আমি কি আপনাকে তা জিজ্ঞাসা করেছি। এরপর লাইনটি কেটে দেন শিক্ষক নাসিম। পরবর্তীতে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

-জুম বাংলা

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net