বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৩৩

শিরোনাম :
কে এই লোটাস ? আ’লীগ কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙ্গীয়ে করছে অবৈধ ব্যবসা !

কে এই লোটাস ? আ’লীগ কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙ্গীয়ে করছে অবৈধ ব্যবসা !

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াসী অভিযানের মধ্যেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বরিশাল সদর উপজেলার একাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী। দেশ ব্যাপি মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পূর্বেও বরিশাল মহানগরী সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলের মাদক ব্যাবসা নিয়ন্ত্রনে ছিলো তাদের।

এমন সব কায়দায় এরা এদের কার্যক্রম চালায় যা দেখলে কেউই বুঝবে না যে এরা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবত বরিশালে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুললেও ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে চলার কারনে পুলিশ প্রশাসন কোনভাবেই তাদেরকে আটক করতে পারেনা। অবশ্য প্রকাশ্য দিবালোকে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা ওই মাদক ব্যবসায়ীরা কিছু অসাধু পুলিশ-প্রশাসনকে মাসোয়ারা দিয়েই ব্যবসা পরিচালনার করে আসছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছে বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকার এনামুল হক লোটাস।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন বন্দর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা । অভিযোগ উঠেছে, লোটাস নিজেই আড়ালে বসে মাদক ব্যাবসা পরিচলনা করে আসছে। প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে দেদারছে এ মরন নেশা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সুত্র বলছে, চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকায় সন্ধ্যা থেকে গভির রাত পর্যন্ত চলছে ইয়াবা ব্যাবসা। গোপন সুত্রে জানা যায়, মৃত মজিবর রহমান জমাদ্দার এর পুত্র লোটাসের নেতৃত্বে রেজাউল, সিরাজ দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসা করে আসছে। একইভাবে তালুকদার হাট বাজার এলাকার বিভিন্ন স্পটে লোটাসের নিয়ন্ত্রনে চলছে অবৈধ এ মরণ নেশা ইয়াবার ব্যবসা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, লোটাস আমাগো এই তালুকদার হাট বাজার এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, “এই এলাকায় লোটাসের প্রভাবে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না, সে নাকি আওয়ামী লীগের বড় মাপের নেতা, তাই ভয়ে কেউ কিছু বলেনা। বাজারে একটা দোকান ভাড়া নিয়া আওয়ামীলীগের সাইনবোর্ড লাগাইয়া ভিতরে যা করে তা বলার মতো না। সারাদিন বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর ঠিকই লোটাসের আড্ডা খানা খোলা হতো, কিন্তু তাও আবার ভিতরে ঢুকে সাটার লাগানো থাকতো। ভিতরে বসে কি যে করতো আমরা জানিনা। তবে এর মধ্যে দেখছি পুলিশ আইয়া দোকানডা বন্ধ কইরা তালা মাইরা দিয়া গেছে”। এ ব্যাপারে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মোঃ কালাম মীরা জানান, কার্যালয়টি যখন করা হয় তখন আমাদের কিছুই জানানো হয়নি এবং অবৈধভাবে লোটাস জমাদ্দার নামের আমাদের এলাকার এক ছোট ভাই কার্যালয়টি গড়ে তোলে। বর্তমানে কার্যালয়টি লোটাস ও তার কিছু বন্ধু মিলে নিয়িন্ত্রন করে।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে বন্দর থানার ওসি (তদন্ত) স্যার আমাকে কার্যালয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল তখন আমি লোটাসকে ডেকে কার্যালয়ের ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলে সে আমার কথার কোনো ভালো মন্দ জাবাব না দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে আমি আর এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। এদিকে চাঁদপুরা ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের এক নেতা জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামীলীগ রাজনীতি করি কিন্তু কখনো এই নামের ছেলেকে আমাদের সাথে রাজনীতির কার্যক্রমে দেখিনি। তিনি বলেন, “শুনেছি বাজারে নাকি একটা দোকান ভাড়া নিয়া সেখানে আওয়ামী যুবলীগের সাইন বোর্ড লাগাইয়া কার্যালয় বানাইছে”। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোনো আওয়ামীলিগের নেতা কর্মীদের আসতে দেখিনি।

সেখানে সন্ধ্যার হলেই চলে মাদক সেবন এবং বিভিন্ন অপকর্ম । তিনি আরো বলেন, এইসব বিষয়ের মূল মদদ দাতা হচ্ছে ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার কালাম মীরা। নইলে তার এলাকায় কিভাবে এরকম অবৈধভাবে আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গীয়ে কার্যালয় গড়ে তোলে। এ বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে আসছি, মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান সবসময় অব্যাহত থাকবে। আর তালুকদার হাট বাজারের এই কার্যালয়ের বিষয়ে আমি এর আগেও অভিযোগ পেয়েছিলাম, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে কার্যালয়ে তালা বদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এরপরেও যদি আপনাদের কাছে আরো কোনো মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য প্রমাণ থাকে তাহলে আমাদেরকে জানান, আমরা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এদিকে এনামুল হক লোটাসের হাত থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net