বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:১৯

শিরোনাম :
কুয়াকাটায় স্ত্রী ও শ্বশুর শাশুড়ীর হাতে জামাই খুন ॥ আদালতে মামলা দায়ের

কুয়াকাটায় স্ত্রী ও শ্বশুর শাশুড়ীর হাতে জামাই খুন ॥ আদালতে মামলা দায়ের

dynamic-sidebar

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ॥ কুয়াকাটায় স্ত্রী ও শ্বশুর শাশুড়ীর হাতে জামাই খুন হওয়ার অভিযোগে ২০দিন পর চাচা মতলেব খা (৫৫) ৮জনকে আসামী করে কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানাযায়, পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার পায়রাগঞ্জ গ্রামের রাজ্জাক খার পুত্র আল-আমিন (২৮) এর সাথে কুয়াকাটা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আঃ আজিজের কণ্যা মহিমা বেগম’র (২৫) ৯বছর পূর্বে বিবাহ হয়।

আল-আমিন, শ্বশুর আঃ আজিজের বাড়িতে থেকে ইসাহাকের পুত্র বেল্লাল হোসেন (৩৫) এর সাথে ৩বছর যাবৎ সাগরে ইলিশ মাছ ধরার নৌকায় ভাগে ব্যবসা করে আসছিল। শ্বশুর বাড়ি থাকায় ব্যবসার টাকা ১-৩নং আসামীর কাছে জমা রাখা হত। ব্যবসার শুরু থেকে তাদের কাছে প্রায় চার লক্ষ টাকা জমা রাখছিলেন আল-আমি। সম্প্রতি আল-আমিন এর মৃত্যু ঘটনার দু’তিন দিন পূর্বে সাগরে মাছ শিকারে গেলে অর্ধ ভাগে তিনি ৫০ হাজার টাকা পায়।

ব্যবসার সে ৫০হাজার টাকাও স্ত্রী মহিমা ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য জোর করে নিতে চাইলে স্ত্রী ও শ্বশুর শাশুড়ীর সাথে তার বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ৫আগস্ট রাতে মহিমা বেগম, আঃ আজিজ, মোসাঃ বিলকিছ বেগম, মোঃ বেল্লাল হোসেন, মোঃ হাসান, মোঃ জাকির, মোঃ মোকলেছ ও মোঃ তৈয়বুর রহমান সহ আসামীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে আল-আমিনকে খুন করেন। এমনকি খুনের দায় এড়াতে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বসত ঘরের একটু পাশেই তালগাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

যেকারণে ঘটনার পরের দিন সকালে ৬আগস্ট স্ত্রী মহিমা বেগম মহিপুর থানায় বাদী হয়ে একটি আত্মহত্যার মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-১২/১৯। প্রকৃত ঘটনা আত্মহত্যা নয়, বরং খুন জানতে পেরে আল-আমিনের চাচা ২০দিন পর ২৬ আগস্ট কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কোর্টের মামলা নং-জিআর-৩৭৭/২০১৯।

মৃত আল-আমিনের চাচা মতলেব খার দায়ের কৃত হত্যা মামলার হাত থেকে বাঁচার জন্য ১নং আসামী স্ত্রী মহিমা বেগম দিশেহারা হয়ে হত্যা মামলার বাদী চাচা শ্বশুর মতলেব খা ও তার মানিত সাক্ষীদেরকে আসামী করে ২৭আগস্ট কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অপর আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

স্ত্রী মহিমার ইতিপূর্বে দায়ের কৃত আত্মহত্যার মামলা ও শেষোক্ত হত্যা মামলা এ ২টি মামলা পরস্পর বিরোধী এবং তাদের অপরাধ ধামা চাপার দেয়ার জন্য এমন মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অনেকের ধারণা।

মৃতের চাচা মতলেব খা ও মস্তফা খা বলেন, ভাতিজার স্ত্রী মহিমা বেগম ৬আগস্ট মোবাইলে বলেন, আপনার ভাতিজা আল-আমিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে আমরা ছুটে গিয়ে দেখি লাশ পটুয়াখালী মর্গে নিয়ে গেছে। এলাকার মানুষ উক্ত লাশের ভিডিও ও ছবি তোলে সেখান থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করি। পরে পটুয়াখালী মর্গে গেলে তারা আমাদের দেখে লাশ ফালাইয়া পালাইয়া যায়।

তারা আরও বলেন, লাশ দাফন শেষে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার স্যারের সাথে দেখা করি এবং ছবি দেখালে সে বলে এটা আত্মহত্যা নয়, এটা হত্যা।

স্যার ওসি মহিপুরকে ফোনে এ ব্যাপারে বলেন, এটা আত্মহত্যা নয়। এটা হত্যা ব্যাপারটা ভাল করে দেখ? কে হত্যা করেছে।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহিপুর থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট পাইনী, সার্টিফিকেট পেলে বলা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net