নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু জ¦রের প্রার্দুভাব থেকে রক্ষা করতে মাঠে নেমেছে বিশেষজ্ঞ টিম। ইতোমধ্যে তারা বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু করেছেন।
অনুসন্ধানে নামা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্তের দিক থেকে দেশের মধ্যে বরিশাল বিভাগ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তাই সরকার এই বিভাগকে বিশেষ নজরদারীর আওতায় রেখে ডেঙ্গুর নমুনা সংগ্রহে মাঠে নেমেছে তারা। নগরীর ৩০০ পরিবারের তথ্য-উপাত্ত ও নমুনা সংগ্রহ করতে ১৯ জনের এই বিশেষজ্ঞ টিম গত ২১ আগস্ট থেকে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
সূত্রমতে, ঢাকা থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পরেছে। অন্যান্য জেলার তুলনায় বরিশালে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। শুধু তাই নয়, সারাদেশের মধ্যে বরিশাল বিভাগকে তৃতীয় বলা হয়েছে। এসব কারণ অনুসন্ধানের জন্য বরিশালে জরিপ চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জেলা উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর উৎস স্থানীয় এডিস মশা কিনা, তা চিহ্নিত করা না হলে এর প্রকোপ কমবে না। তাই ঢাকার বাহিরের জেলাগুলোর মধ্যে বরিশালে যেহেতু ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেজন্য এখানে জরিপ চালানো হচ্ছে।
রোগতত্ত্বের দলগুলো নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খানা জরিপ, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ডেঙ্গু রোগী আছে কি না, তা যাচাই এবং চলতি বছর যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে তাদের রোগের ইতিহাস এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে কীটতত্ত্বের ছয়টি দল নগরীর ১২টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, হাসপাতালগুলো থেকে মশার লার্ভার নমুনা সংগ্রহ করছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে ডেঙ্গু জ¦রের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে গত জুলাইয় মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। এরপর তা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এরইমধ্যে পুরো বিভাগে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে পিরোজপুর জেলায়। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে সোমবার পর্যন্ত দুই হাজার ৩৮১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান ডাঃ রবিউল ইসলাম বলেন, নগরীকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে গত ডিসেম্বর মাস থেকে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এরমধ্যে ডেঙ্গুর প্রবণতার পর এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
আইইডিসিআর’র বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান গবেষক ও রোগতত্ত্ববিদ ওমর কাইউম বলেন, বরিশালে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্তর সংখ্যা বেশী পাওয়া গেছে। কেন বেশী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে? এর পেছনে কি হতে পারে, সেটা চিহ্নিত করতে আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানা যাবে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু জ¦রের কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল মাঠে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই এর অবস্থান সর্ম্পকে জানা যাবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply