স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় প্রেসক্লাবের সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদকে সুপারিশ করেন বরিশাল সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম।
সুপারিশ পাওয়ার পরে বরিশাল জেলা পরিষদ ২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়। বরাদ্ধ হওয়ার পরেই বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবেরহাট বাজারের অবস্থিত শেখ রাসেল স্মৃতি ক্লাব ও পাঠাগারের একটি কক্ষে রাতের আধারে একটি সাইনবোর্ড টানায় রিয়াজ হোসেন নামের এক যুবক।
সকালে সাইনবোর্ড দেখে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। তখন বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ ফেরদাউস সবাইকে শান্ত করে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস্ত করেন। পরবর্তিতে মোঃ ফেরদাউস জানান রিয়াজ ওই সাইনবোর্ড সাটিয়েছে।
কেন সাটিয়েছে জানতে চাওয়া হলে তখন তিনি বলেন বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ হয়েছে সেই টাকা উত্তোলন করে এখানে একটি কমিটি করে তাদের হাতে তুলে দিবে। এমন কথা প্রেক্ষিতে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
আহবায়ক হন পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ ফেরদাউস। কমিটি হওয়ার পরে একটি পরিত্যাক্ত রুমে কাজ করানো লাগবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংবাদিক ফেরদাউস নিজের পকেটের টাকা ব্যায় করে ঘরটি সংস্কার করেন।
এর কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পরে স্থানীয় অপর সাংবাদিক রিপন হাওলাদার ও রিয়াজ গোপনে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে। এটা নিয়ে ফেরদাউস ও রিয়াজের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে ফেরদাউস বরিশাল জেলা পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর কু-কৌশলী রিয়াজ ফেরদাউসের কাছ থেকে একটি লিথিত নেয় যে বরাদ্ধের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে ফেরদাউসকে টাকা দিয়ে দিবে। এমন প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরে ফেরদাউস আর কোন কথা বলেনি।
সূত্র মতে জানা গেছে ওই ঘর নির্মানের পুরো ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে ফেরদাউস। পরবর্তিতে জেলা পরিষদে একটি কমিটি জমা দিয়েছে যার সভাপতি মেহেদী হাসান রিয়াজ ও সম্পাদক তার ছোট ভগ্নিপতি সাইফুল নামের ব্যক্তি।
বরিশাল জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্ধের অর্ধেক টাকা উত্তোলন করেছে রিয়াজ। সূত্র আরো জানা গেছে বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মেহেদী হাসান রিয়াজ ।
বরাদ্ধে অনেক মাস অতিবাহিত হলেও কোন দপক্ষেপ নেন নি জেলা পরিষদ। বরিশাল জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে এডিপির বরাদ্ধ থেকে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিলো। সূত্রটি আরো জানায় প্রতিটি কাজের জন্য জেলা পরিষদকে অঙ্গীকার নামা দিতে হয়।
মেহেদী হাসান রিয়াজ ও সাইফুল ইসলাম একটি অঙ্গীকার নামা দাখিল করেন। যেখানে লেথা হয়েছে ২০১৭ সালের ১৭ মে থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করবেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকার শুধু অঙ্গীকারেই রয়ে গেছে।
কাজের বাস্তবতা কিছুই হয় নাই। বরাদ্ধে প্রথম কিস্তির টাকার বিষয় মেহেদী হাসান রিয়াজের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এক লাখ টাকা ৫০ হাজার পেয়েছি। কিন্তু জেলা পরিষদেই আমার প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে আরো জানায় কোন টাকা পয়সা লাগে নাই এই বরাদ্ধের প্রথম কিস্তি নিতে। এদিকে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে কোন কাজ হয় নাই সেই পূর্বাঞ্চলীয় প্রেসক্লাবের।
এবিষয়ে বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন খান জানান আমরাও কাজের কিছুই দেখি নাই। পূর্বাঞ্চলীয় প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোঃ ফেরদাউস জানান, আমি আমার পকেটের টাকায় প্রেসক্লাবের সংস্কার করেছি এটা সবাই জানে আমি এই বরাদ্ধের কোন টাকা পাই নাই।
আসলে প্রকল্পের মেয়াদ কত দিন জানতে চাইলে বরিশাল জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, আসলে আমার জানা নেই তবে আমরা দ্রুতই সেখানে পরিদর্শনে যাবো এবং কোন কাজ না করে থাকলে তাকে নোটিশ করবো। এদিকে বরিশাল জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে আমি দেখছি কেউ অনিয়ম করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
অপরদিকে বাংলাদেশ দূর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা কোন অভিযোগ পাই নাই তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এব্যাপারে বরিশাল পূর্বাঞ্চলী প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান আমরা তো জানিই না যে কবে টাকা উত্তােলন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন এই রিয়াজ। বরিশালের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের হাতে ফুল দিয়ে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply