আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥বরগুনার তালতলীতে এক গৃহবধূকে জঙ্গলে নিয়ে তার মেয়েকে গাছের সাথে বেধে মেয়ের সামনেই মাকে ৪ নরপশু গণধর্ষন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে ধর্ষন চেষ্টা করেছে। মামলা হয়েছে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে এনে। মামলার বাদী ধর্ষিতা ওই গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে শনিবার তালতলী থানায় মামলা করেছে। তবে ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের গহীন জঙ্গলে। এত দিন মান সম্মানের ভয়ে মামলা করেনি বলে জানান ওই নির্যাতিত গৃহবধূ।
জানাগেছে, ওই নারী তার শ্বশুর বাড়ী মঠবাড়িয়া থেকে মহিপুরের বাবার বাড়ী ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা ওই নারী ২৩ মার্চ গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে তালতলী থেকে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট যাওয়ার জন্য স্থানীয় জহিরুলের মটরসাইকেলে ভাড়া করেন। জহিরুল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মটরসাইকেলে ওই নারীকে তার গন্তব্যস্থলে না নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের গহীন জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জহিরুল তার চার বখাটে সহযোগী এমাদুল, নজরুল, সোহাগ, সাইদুল কে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে। ওই নারীর সাথে থাকা কন্যাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে খুনের ভয় দেখিয়ে সবাই মিলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঐ নারীর জ্ঞান ফিরলে তার মেয়েকে সহ পাশর্^বর্তী লোকজনের কাছে আশ্রয় চাইলে তারা অন্য মটর সাইকেল যোগে নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট পৌছে দেন।
ধর্ষিতা গৃহবধূ জানান, তেতুলবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে জহিরুল নামে এক মটর সাইকেল চালকে ভাড়ায় নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য চুক্তি করা হয়। সে আমাকে সেখানে না নিয়ে জঙ্গলে দিকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে মটরসাইকেল চালক মোবাইল ফোনে আরো চারজনকে ডেকে আনেন। এক পর্যায়ে ওরা সবাই মিলে আমার মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে আমাদেরকে খুনের ভয় দেখিয়ে আমাকে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। আমি ঞ্জান হারিয়ে ফেললে তারা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আমার জ্ঞান ফেরার পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অন্য মটরসাইকেল যোগে নিশানবাড়িয়া এসে খেয়া পাড় হয়ে বাড়ীতে পৌছাই।
তিনি আরও বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে এব্যপারে আমি এতদিন কোথাও অভিযোগ করিনি। কিন্তু বিষয়টি ব্যাপক ভাবে জানাজানি হওয়ায় আমি থানায় এসে বিচার চাইতে বাধ্য হই।
এ ঘটনায় একাধিক স্থানীয়রা জানান, মটর সাইকেল চালক জহিরুল ১০টার দিকে ঐ মহিলাকে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে এমাদুল, নজরুল, সোহাগ, সাইদুল ও জঙ্গলের দিকে যায়। বিকাল ৪টার দিকে ঐ মহিলা রাস্তায় এসে জনসম্মুখে উক্ত ঘটনা প্রকাশ করলে আমরা অন্য মটরসাইকেল যোগে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।
এ ব্যাপারে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ দিতে ভুক্তভোগী নিজেই থানায় এসেছেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে। গণধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্ঠার মামলা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এলাকায় গ্রুপিং পাল্টা গ্রুপিং কারনে ওই নারী এখন হয়তো এ কথা বলছে। তবে ভূক্তভোগি ওই নারী আমাদের কাছে ধর্ষন চেষ্ঠার কথা বলেছে আমরা সে অনুযায়ি মামলা নিয়েছি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply