নিজস্ব প্রতিবেদক ॥দেশে করোনার প্রভাবে চলতি লকডাউনে সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও কিছু এতিম শিশুদের যাওয়ার কোন স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে বরিশালের একটি মাদ্রসার অর্ধশত এতিম শিশুর।কারন ওরা এতিম! এই দুনিয়ায় ওদের মা-বাবা ভাই বোন আত্বীয়-স্বজন কেউ নেই।
কয়েকজন শিশুর আত্বীয়-স্বজন থাকলেও তারা কখোনোই ওদের খোঁজ রাখেনা।বরিশাল নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড পলাশপুর ৭ নং গলীর কালভার্ট সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর অর্ধশতাধিক এতিম শিশুর বাস্তবতা খুবই চরম পর্যায়ে রুপান্তরিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই অবস্থান করছে অর্ধশতাধিক এতিম শিশু। তাই সীমিত পরিসরে মাদ্রাসা খোলা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মাদ্রাসা পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম ফিরোজী। তবে বর্তমান এই পরিস্থিতেও এই সকল এতিম শিশুদের খোঁজ নিচ্ছে না কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষ।
তবে দিনভর করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল্লাহর কাছে পরিত্রাণ চেয়ে এই এতিম শিশুরা রোজা রেখে কুরআনখানী ও দোয়া মোনাজাত শেষে ইফতার করে বড় হুজুরের মাধ্যমে দোকান থেকে ক্রয় করা ইফতার দিয়ে।বরিশালে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে চারিদিকে ত্রান বিতরণের কার্যক্রম দেখা গেলেও এ পর্যন্ত মাদ্রাসায় অবস্থানরত ২ শিক্ষককে বিসিসি মেয়রের দেয়া ২ প্যাকেট ত্রান ছাড়া তেমন কোন দানশীল ব্যাক্তিও তাদের খবর নেয় নি। এ বিষয়ে পরিচালক নুরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, প্রায় ৮ মাস পুর্বে জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান সরোজমিনে এসে ২ টন চাল দিয়েছিলেন। তাই দিয়ে কিছুদিন চিন্তামুক্ত ছিলাম আমি।
এরপর দানশীল ব্যাক্তিদের সহযোগীতা ও বিভিন্ন স্থানে করা ওয়াজ মাহফিল থেকে আমার অর্জিত অর্থ দিয়েই ওদের থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করতে হয়।কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও কিছু এতিম শিশুদের যাওয়ার কোন স্থান না থাকায় কঠোর ভাবে স্যানিটাইজেশন বজায় রেখে এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে এতিম খানা খোলা রাখতে বাধ্য হয়েছি।কারন এই সময় মাদ্রাসা বন্ধ রাখলে রাস্তায় ঘোরা ছাড়া ওদের কোন উপায় থাকবে না।
কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যে কোন দানশীল ব্যাক্তির সাড়া না পাওয়ায় আমি খুব বেকায়দায় পরেছি।ওদের রান্নার জন্য বাবুর্চও মাদ্রাসায় অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে। কিভাবে বাবুর্চির বেতন দেওয়ার পাশাপাশি ছাত্রদের খাবার এবং ইফতারের ব্যাবস্থা করব,সেই চিন্তায় আমার নির্ঘুম রাত কাটে। তিনি আরও বলেন , আমাদের মাদ্রাসায় মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সাহেবের দেয়া ১৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ভ্যাট বাদ দেয়ার পরে হাতে পেয়েছিলাম সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা। তা দিয়ে জমি ক্রয় করে ৪ তলা ভিক্তির উপর সেমি ২ তলা ভবনের কাজ শেষ করতে গিয়ে উল্টো প্রায় ৮ লক্ষ টাকা দেনাগ্রস্থ হয়েছি।
বর্তমানে ২ তলার ছাদের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।যা দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন। যদি কোন ব্যাক্তি এই এতিম শিশুদের সাহায্য করতে চান,তবে ২৪ ঘন্টার যে কোন মুহূর্তে সরাসরি মাদ্রাসায় চলে আসতে পারেন অথবা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন মোবাইলে। আমার নাম্বার- ০১৯২৪৬১২৯১৮(বিকাশ)।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply