বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:০৩

শিরোনাম :

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ডকেই রেড জোন ঘোষণা

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক॥বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ২৭টিকেই ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওই দপ্তর থেকে ‘রেড জোন’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন ঘোষিত এলাকার তথ্য পাঠানোর পাশাপাশি ঢাকা থেকে দেয়া জরুরি বার্তায় রেড জোন এলাকা লকডাউন করাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়।

 

 

তবে চলমান বাস্তবতায় এখনই পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকা লকডাউন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন। আপাতত মডেল হিসেবে নগরীর ছোট্ট একটি এলাকা অথবা ১টি বা ২টি ওয়ার্ড লকডাউন করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হবে।সব শর্ত মেনে আলোচ্য পাইলটিং বা মডেল এলাকায় লকডাউন সফল করা গেলে পরবর্তীকালে অন্যান্য এলাকা লকডাউনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ দিকে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, নগর এলাকায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন। তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।সরকারি হিসেবে বরিশালসিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৩ জনের বসবাস।

 

 

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৯ জন। এই নগরীতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫২ জন। সেই হিসেবে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই বরিশাল নগরীর বাসিন্দা। একই সঙ্গে আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৮ জন। পুরো বিভাগে মারা যাওয়া ৩৩ জনের মধ্যে বরিশাল নগরীর মারা যাওয়ার সংখ্যাও এক-চর্তুথাংশ প্রায়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় থেকে আসা ওই নির্দেশনায় নগরীর ২৬, ২৭ এবং ৩০নং ওয়ার্ডকেই কেবল ঘোষণা করা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে। এ ছাড়া বাকি ২৭টি ওয়ার্ড-ই রেড জোন। এখানে কোনো ইয়েলো জোন নেই বলে উল্লেখ রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যাপিংয়ে।বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রেড জোন’র ম্যাপ পাঠানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক আমাকে ফোন করে তাদের দেয়া নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনায় রেড জোন ঘোষিত এলাকায় লকডাউন ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছেন তিনি।

 

 

ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করে বরিশালের সংশ্লিষ্ট সব দফতর প্রধানদের চিঠি দেয়া হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশন লকডাউনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করবে। সেক্ষেত্রে লকডাউন বাস্তবায়ন প্রশ্নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব নির্দেশনা রয়েছে তার সব আয়োজন সম্পন্ন করে এলাকাগুলো লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।জেলা প্রশাসক এসএস অজিয়র রহমান বলেন, ২৭টি ওয়ার্ড একসঙ্গে লকডাউন করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। যেটা অনেক কষ্টসাধ্য, তাই এখনই আমরা সেদিকে যাচ্ছি না। তাছাড়া এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে জনগণ কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন সে সম্পর্কেও আমাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। তাই প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট একটি এলাকা লকডাউন করব। ওই নির্দিষ্ট এলাকার লকডাউনকালীন সব পরিস্থিতি দেখে পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের আওতা বাড়ানো হবে।

 

 

এ দিকে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আসা রেড জোনের ম্যাপিং অনুযায়ী বরিশাল নগরীর ১২নং ওয়ার্ডে করোনা শনাক্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে। এই ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৬১১ জন। আর ১২ জুন পর্যন্ত এখানে মোট শনাক্ত হওয়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ জন। এ ছাড়া ৫ হাজার ৭৯১ জন বাসিন্দার এলাকা ১২নং ওয়ার্ডে ৮১ এবং ৬ হাজার ৩৬০ জন বাসিন্দার এলাকা ১৬নং ওয়ার্ডে ৭৪ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন।তালিকা অনুযায়ী উল্লেখিত ৩টি ওয়ার্ড কিংবা এর যে কোনো একটি ওয়ার্ডে পাইলটিং হিসেবে শুরু হতে পারে লকডাউন। আলোচ্য ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডে রয়েছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কার্যালয় এবং পুলিশ লাইনস।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net