বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২১

শিরোনাম :

ঢাকা থেকে বরিশালগামী সাকুরা বাসে মধ্যরাতে ডাকাতি

dynamic-sidebar

এইচ আর হীরা
ঢাকা থেকে বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও যাত্রীদের উপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৯ মে) দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে মাদারীপুরের ভুরঘাটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বাসের যাত্রীদের ভাষ্যমতে, ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে যাত্রীবেশে মাহবুব নামে দুজন টিকিট ক্রয় করে বাসে ওঠেন। রাত গভীর হলে বাসটি ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তারা নেমে যাওয়ার কথা বলেন। বাস থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাইরে অপেক্ষমান তাদের সহযোগী ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্রসহ বাসে ওঠে এবং অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময়, বাসটির জানালার কাঁচ ভাঙচুর এবং ভিতরে ভীতি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এ ঘটনায় বরিশাল নগরের বাসিন্দা মুয়ীদুর রহমান ও খলিলুর রহমান নামের দুজন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া এক নারী যাত্রীর সাথে থাকা দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বাসের অপর যাত্রী সুজন জানান, “আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মারধরের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রীদের উপর হামলা চালাচ্ছে।” আহত যাত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “আমি ব্যবসা শেষে ফিরছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার পাশের যাত্রীকে মারছে, থামাতে গেলে আমাকেও মারধর করে এবং নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়।”

বাসটির টিকিট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডাকাত দলের সদস্যরা মাহবুব নামে যাত্রী হিসাবে (ডি ১-২) টিকিট নিয়ে বাসে যাত্রী পরিচয়ে সিট নেন। এমনকি, টিকিটে উল্লেখ থাকা ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার সময় (ট্রু কলারে) তার নামের পাশে সহ অর্থ সম্পাদক বরিশাল জেলা গন অধিকার পরিষদের বরিশাল জেলা কমিটির একটি পদবী উল্লেখ করা রয়েছে। তবে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোনধারী নিজেকে ‘আব্বাস’ নামে পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি কোনো টিকিট কেনেননি এবং দ্রুতই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

 

এর কিছুক্ষণ পর গণ-অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ফোন করে হামলাকারীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে অভিযোগ করেন যে, ভুক্তভোগীরা ‘পকেটমার’। বাসটির সুপারভাইজার শাহাদাৎ হোসেন জানান, “বাস থামানোর সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে বাসে উঠে হামলা চালায়।” সাকুরা পরিবহনের এজিএম মো. ইসমাইল সাগর বলেন, “ঘটনার বিষয়ে রাতেই অবগত হয়েছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

 

তবে এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ মাদারীপুর রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, “আমি এখনো বিষয়টি জানিনা। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনাকে ঘিরে বরিশালবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। গণ-পরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধ আড়াল না করার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।

 

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net