খবর বরিশাল ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র আটদিন বাকি। বিগত দিনের তুলনায় এবারের নির্বাচনের ভোট আয়োজনকে ঘিরে ভিন্নধর্মী প্রস্তুতি ও প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’—এই দুই বিকল্পে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিকে, গণভোট সামনে রেখে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রেডিও, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে বিলবোর্ড ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে।
বরিশাল নগরীতেও এ প্রচারণার দৃশ্যমানতা রয়েছে। বিশেষ করে নথুল্লাবাদ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্যসম্বলিত বিলবোর্ড ও ফেস্টুন টানানো হয়। তবে এসব সরকারি সচেতনতামূলক প্রচারণা আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশালে নির্ধারিত সফরকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি বিলবোর্ডে শুভেচ্ছা ফেস্টুন টানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত বিলবোর্ডে টানানো গণভোট বিষয়ক সচেতনতামূলক ফেস্টুনের ওপরেই রাজনৈতিক ব্যানার স্থাপন করা হয়।
বিশেষ করে নথুল্লাবাদ এলাকার একাধিক বিলবোর্ডে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জুর ছবি সংবলিত ফেস্টুন দেখা যায়। এসব ফেস্টুনে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক নেয়ামুল হাসান সজিব, মো. সোহেল ও মো. ইমরান শিকদারসহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন কর্মীদের নাম সৌজন্যের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে নেয়ামুল হাসান সজিবেরে বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহত ফোন নাম্বারে একাধীকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, এতে গণভোট সম্পর্কিত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছাতে ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঐকমত্য কমিশনের ধারাবাহিক আলোচনার পর প্রণীত ‘জুলাই সনদে’ ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার এবং ৩৭টি আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পেলে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে সরকার গণভোটকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।
নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রচার-প্রচারণা, বিলবোর্ড ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ব্যানার স্থাপন বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply