
ছবি : খবর বরিশাল
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অতিরিক্ত আলুবোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় একটি বেইলি সেতু ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ১০টি রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা বন্দরের দেবীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি অতিরিক্ত আলুভর্তি ট্রাক ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুটি অতিক্রম করার সময় সেতুর মাঝখান ভেঙে যায় এবং ট্রাকটি সরাসরি খালে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ওই স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে একটি স্থায়ী পাকা সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পুরনো বেইলি সেতুটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি বহু বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত ছিল না।
সেতু ভেঙে যাওয়ার পর মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, চরখালীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যানবাহন, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন সেতুর দুই পাশে আটকা পড়ে আছে। অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে খেয়া নৌকায় খাল পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পণ্য পরিবহনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহনেও মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, ভেঙে পড়া বেইলি সেতুটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছিল ২০ মেট্রিক টন। কিন্তু দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটিতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ আলু বোঝাই ছিল। অতিরিক্ত ওজনের কারণেই সেতুটি ধসে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. রাসেল। তিনি জানান, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক সেতুর ওপর উঠতেই কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। ফলে আঞ্চলিক মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কার এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বেইলি সেতুই এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা ছিল। তাই সেতুটি ধসে পড়ায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply