বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৫২

শিরোনাম :
বরিশালে ভুয়া তালিকা খণ্ডনের পর অটোর ভেতর চালকদের নতুন চার্ট, বিসিসির নীরবতা কেন

বরিশালে ভুয়া তালিকা খণ্ডনের পর অটোর ভেতর চালকদের নতুন চার্ট, বিসিসির নীরবতা কেন

dynamic-sidebar

বরিশাল নগরীতে চলাচলকারী হলুদ অটো ও সিএনজির ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি ও নৈরাজ্য চরম আকারে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) লোগো ব্যবহার করে ছড়ানো ৫ টাকার ভাড়ার তালিকাটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট বলে অফিশিয়ালি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সিটি কর্পোরেশন। বিসিসি জানিয়েছে, ভাড়া সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। কিন্তু এই সরকারি ঘোষণার পরপরই নগরীর চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রশাসন যখন ভুয়া তালিকা রুখতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অটো ও ইজিবাইকের ভেতরে চালকরা একদম নতুন এবং বর্ধিত ভাড়ার আরেকটি তালিকা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
অটোর ভেতরে চালকদের নতুন তালিকা: সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ অটোরিকশার ভেতরে চালকরা নিজেদের তৈরি করা একটি প্রিন্ট করা ভাড়ার তালিকা সেঁটে দিয়েছে। এই তালিকায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে— সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা।

চালকদের এই নতুন তালিকা অনুযায়ী প্রধান কিছু রুটের ভাড়া নিচে দেওয়া হলো:
নথুল্লাবাদ থেকে নতুন বাজার: ১০ টাকা
নথুল্লাবাদ থেকে জেলগেট: ১৫ টাকা
নথুল্লাবাদ থেকে রূপাতলী: ২০ টাকা
নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাট: ২৫ টাকা
রূপাতলী থেকে সাগরদী – আমতলী: ১০ টাকা
রূপাতলী থেকে মেডিকেল: ১০ টাকা
রূপাতলী থেকে লঞ্চঘাট: ২০ টাকা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিসিসির নামে ছড়ানো ভুয়া তালিকায় যেখানে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা দেখানো হয়েছিল, চালকদের নিজস্ব এই নতুন চার্টে তা সরাসরি দ্বিগুণ করে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বিসিসির নীরবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
ভুয়া তালিকার বিরুদ্ধে সাথে সাথে অ্যাকশন নেওয়া সিটি কর্পোরেশন কিন্তু অটো চালকদের এই নিজেদের তৈরি করা চার্ট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, বিসিসি যখন অফিশিয়ালি পূর্বের তালিকাকে না বলল এবং জানাল যে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তখন চালকরা কীভাবে কোনো অনুমোদন বা সিল-স্বাক্ষর ছাড়া নিজেদের ইচ্ছেমতো চার্ট বানিয়ে অটোর ভেতর ঝুলিয়ে দেওয়ার সাহস পায়? এই বিষয়ে প্রশাসন কেন কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা বা বক্তব্য দিচ্ছে না?

যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি নিয়ম না মেনে চালকরা এই চার্ট দেখিয়ে জোরপূর্বক যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে, যা এক প্রকার জিম্মিদশা। নগরবাসী মনে করছেন, সিটি কর্পোরেশনের এই নীরবতা ভাড়া নৈরাজ্যকে আরও উসকে দিচ্ছে। যদি দ্রুত বিসিসি, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসাথে বসে একটি অফিশিয়াল ও বাস্তবসম্মত ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ না করে, তবে মাঠপর্যায়ে যাত্রী-চালক দ্বন্দ্ব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net