বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:১৫

শিরোনাম :

মাঠে কচু গাছ লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী প্রতিবাদ

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও একাধিকবার আশ্বাস পাওয়ার পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বাণিজ্য ভবন মাঠে কচু গাছের চারা লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসের বাণিজ্য ভবন মাঠে এ কর্মসূচি পালন করেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকলেও সংস্কার কিংবা নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

শত বছরের বেশি পুরোনো বিএম কলেজে একসময় নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন হলেও বর্তমানে সেই পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত। শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৩ সালের পর বাণিজ্য ভবন মাঠে আর কোনো খেলার আয়োজন হয়নি। ২০২৬ সালেও মাঠ সংস্কার ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ সংস্কার, খেলাধুলা চালু, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। ২০২৫ সালে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পার হলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

চলতি বছরের মে মাসে ফি নেওয়ার বিপরীতে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা, আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ ১০ দফা দাবি জানানো হলে কলেজ প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কমিটির একাধিক সভা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ফলাফল দেখা যায়নি। আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিও মাঠে গড়ায়নি।

এদিকে খেলাধুলার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, কলেজের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলার ফি বাবদ বছরে ৯০ টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে নিয়মিত কোনো ক্রীড়া কার্যক্রম নেই।

প্রতীকী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, আজকের কর্মসূচিটি আমাদের প্রতীকী আন্দোলন। এর মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনকে বোঝাতে চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বারবার আশ্বাস দিয়ে আর থামিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নীরবতার প্রতিবাদেই আমরা প্রতীকীভাবে মাঠে কচু গাছ লাগিয়েছি।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবির সিকদার বলেন, ২০২৩ সালের পর কলেজে আর কোনো খেলার আয়োজন হয়নি। অথচ প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ইনডোর ও আউটডোর ফি বাবদ বছরে প্রায় ২৭ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাহলে এত টাকা নেওয়ার পরও খেলাধুলা বন্ধ কেন? আমরা দ্রুত মাঠ ভরাট ও সংস্কার করে ‘আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’ আয়োজনের দাবি জানাচ্ছি।

তবে মাঠ সংস্কারে বিলম্বের কারণ হিসেবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য আমরা অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছিলাম। আগে মাঠের চারপাশে রাস্তা ছিল না। এখন রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টির পানি মাঠে জমে যাচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্যাম্পাসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পানি কমে গেলে খেলার আয়োজন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা আর আশ্বাস নয়, মাঠ সংস্কার করে দ্রুত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা হোক। একই সঙ্গে খেলাধুলার জন্য আদায় করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net