খবর বরিশাল ডেস্ক : বিআরটিসি বাস ও থ্রি-হুইলারের (মাহিন্দ্রা) মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত (২২) মারা গেছেন। রোববার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইয়াসিন আরাফাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুজনে।
এদিকে শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণসহ চার দফা দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
অবরোধের কারণে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা, ঝালকাঠি, ভোলা ও বরগুনা রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কের দুই প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে কুয়াকাটাগামী পর্যটকসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসি বাস ও থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর আহত ইয়াসিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর রাত সোয়া ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াকাটাগামী যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে বাকেরগঞ্জ থেকে বরিশালগামী একটি থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই বাকেরগঞ্জের রিফাত (২০) নামে এক যুবক নিহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ইয়াসিন আরাফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রতিবাদ ও চার দফা দাবিতে রোববার রাত ৮টার দিকে প্রথম দফায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসে কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আশ্বাসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply