সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৩০

শিরোনাম :
গৌরনদীতে উপজেলা প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল প্রজাতির ‘ভোল পোয়া’ ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাথরঘাটায় গাছ না কেটে দোকান নির্মাণ করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মেহেন্দীগঞ্জে ফাঁকা বাড়িতে চুরি বরিশাল থেকে সব রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক স্ত্রীকে না জানিয়ে আবারও বিয়ে, বেতন বাড়ছে না পাসপোর্টের কর্মচারীর থ্রি-হুইলার ও বাস শ্রমিকদের দ্বন্ধে বরিশাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, অতিষ্ঠ চার উপজেলার মানুষ বরিশালের দুইটি উপজেলার ১৯৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধানশিক্ষক
কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল প্রজাতির ‘ভোল পোয়া’

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল প্রজাতির ‘ভোল পোয়া’

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘ভোল পোয়া’। এ মাছ ‘বড়চোখা পোয়া’, ‘সাদা পোয়া’ ও ‘পোয়া’ নামেও পরিচিত।

সোমবার সকালে প্রায় ৩ কেজি ওজনের মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের সিফাত ফিসে আনা হয়। পরে ১১ হাজার ১২৫ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম।

জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ‘এমএস সিফাত’ ট্রলারের মাঝি শাইখুলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। সেখানে খোলা ডাকের মাধ্যমে মাছটি প্রায় দেড় লাখ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।

ট্রলারের মাঝি শাইখুল বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ জালে বড় আকৃতির মাছটি উঠে আসে। এত বড় ও দেখতে ব্যতিক্রমী মাছ আগে খুব একটা দেখিনি। জালে এমন মাছ উঠবে—তা আমরা ভাবতেও পারিনি। মাছটি ঘাটে নিয়ে আসার পর সবাই দেখতে ভিড় করেন।’

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাগরে এমন দুর্লভ মাছ পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়। মাছটির আকার ও গঠন অন্যরকম। এ ধরনের মাছ ধরা পড়লে জেলেদের পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসায়ীরাও উৎসাহিত হন।’

মাছটির ক্রেতা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরর মাছ সচরাচর কেনার সুযোগ পাওয়া যায় না। ঢাকার একজন ব্যবসায়ীর অর্ডারের ভিত্তিতে মাছটি কিনেছি। আমার ঢাকার ব্যবসায়ী পার্টনার মাছটি বিদেশে রপ্তানি করবেন বলে জানিয়েছেন।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটি পোয়া বা ক্রোকার গোত্রের (Family: Sciaenidae) মাছ বলে ধারণা করা যায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে এ গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এদের অনেক প্রজাতি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, ‘মাছটির বড় ও গভীর দেহ, বড় মাথা, প্রশস্ত মুখ এবং রূপালি-ধূসর বর্ণ পোয়া গোত্রের কয়েকটি প্রজাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটিকে পোয়া মাছ বলে ধারণা করা গেলেও নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে এ ধরনের ভোল পোয়া মাছ ধরা পড়া সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি ইতিবাচক দিক। বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। মাঝে মাঝে বিরল প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net