নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর কাউনিয়ায় থানা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বরিশাল জেলা ট্রাক শ্রমিকের নাম দিয়ে প্রকাশ্যে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কাউনিয়া বিসিক এলাকায় নানা-নাতির এ চাঁদাবাজির বৈধতা দিয়ে টু-পাইস কামাচ্ছে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কালাম মোল্লা। কোন রকম কমিটি গঠন ছাড়াই কালাম মোল্লার আশির্বাদপুষ্ট কবির ওরফে বিসিক কবির ও তার নাতি সবুজ চাঁদাবাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অথচ ট্রাক থেকে উত্তোলিত চাঁদা বেকার ও অসহায়ত শ্রমিকদের মাঝে বন্টনের নিয়ম রয়েছে। এদিকে কমিটির মেয়াদ শেষে নতুন কমিটি চাওয়ায় সভাপতি কালাম মোল্লার গালাগাল সহ্য করতে হয়ে কমিটির প্রস্তাবনাকারীদের। সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ইনা ব্রিকস এর মালিক ইউনুস তালকুদারকে সভাপতি এবং জুয়েল বিশ্বাসকে সেক্রেটারী মনোনীত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নগরীর কাউনিয়া বিসিকে একটি শাখা কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কালাম মোল্লা ও সেক্রেটারী ইউনুস বেপারী। এছাড়া নিয়ম চালু করে কাউনিয়া বিসিক এলাকায় কোন বড় ট্রাক লোড করা হলে ৫০ টাকা এবং ছোট ট্রাক লোড করা হলে ২০ টাকা চাঁদা দেওয়ার। যা উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া হয় শাখা কমিটির কোষাধ্যক্ষ সোহেল পালোয়ান এবং হেড অফিসের লাইন সম্পাদক সরোয়ার বিশ্বাসকে। অবশ্য হেড অফিস বলতে কালাম মোল্লার গরিয়ারপাড়স্থ ব্যক্তিগত চেম্বার ছাড়া আর কিছুই না। জানা যায়, উত্তোলিত চাঁদার তিন ভাগের এক ভাগ গড়িয়ারপারে কালাম মোল্লার কার্যালয়ে, এক ভাগ বেকার শ্রমিকদের এবং অপরভাগ উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকদের দেয়া হতো। উল্লেখ্য এ কাজে শ্রমিকদেরই নিয়োজিত করার কথা। ওই শাখা কমিটির মেয়াদ দুই বৎসর পার হলে নতুন কমিটি গঠনের জন্য শ্রমিকরা সভাপতি কালাম মোল্লার কাছে দাবী জানায়। কিন্তু কমিটি গঠন নিয়ে তালবাহানা করে কালাম মোল্লা। গত ১৮ নভেম্বর নথুল্লাবাদ বসে শ্রমিকরা কালাম মোল্লাকে নতুন কমিটি গঠনের তাগিদ দেয়। এতে কালাম মোল্লা ক্ষীপ্ত হয় এবং শ্রমিকদের গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে কোন রুপ কমিটি গঠন ছাড়াই কালাম মোল্লার আশির্বাদপুষ্ট বিসিক এলাকার কবির ওরফে বিসিক কবির ও তার নাতি সবুজকে দিয়ে চাঁদা উঠানোর নির্দেশ দেয় কালাম মোল্লা। এরপরই চাঁদাবাজী শুরু করে নানা-নাতি কবির ও সবুজ। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি লোড ট্রাক থেকে চাঁদা নেওয়ার কথা থাকলেও আনলোড ট্রাক থেকেও চাঁদা নেয় তারা। এছাড়া বিসিক সড়কের মধ্যে গর্ত তৈরী করে জরিমানা আদায় করছে নানা নাতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিক এলাকার একাধিক ফ্যাক্টরী মালিক জানান, তাদের নিজস্ব পরিবহন থাকায় তাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে মাসোয়ারাও তুলছে কবির-সবুজ। জানা যায়, কোন আনলোড ট্রাকের শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেনা নানা-নাতি। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুললেও এর কোন হিসাব নেই জেলা কার্যালয়ে। হিসাব চাইলেও হুমকি ধামকি খেতে হয় সাধারণ শ্রমিকদের। এদিকে শ্রমিক না হয়েও ট্রাক চাঁদা তোলায় সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত দু’মাসে কোন বেকার শ্রমিককে ভাতা দেয়া হয়নি। তাই সাধারণ শ্রমিকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষীপ্ত। এ সব ঘটনা নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশংকা করছে শ্রমিকরা। এ ব্যাপারে জানতে কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (নাম্বার ০১৭১৬ …. ১৩) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply