ক’দিন আগেই আইসিসি তার সম্পর্কে নতুন এক বিশেষণ ব্যবহার করেছে—রানওয়ে লিডার!আইসিসির সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে বছরের পর বছর একনম্বর অলরাউন্ডার থাকায় এই বিশেষণ। এবার সেই ‘লিডার’ সাকিব আল হাসানের পালকে যুক্ত হচ্ছে আরেকটা পালক। গত অক্টোবরেই এমসিসির মর্যাদাপূর্ণ ক্রিকেট কমিটির সদস্য হয়েছেন তিনি। এবার সেই কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে ৭ জানুয়ারি ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ৯ ও ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই সভা। ইতিমধ্যে এই সভার আলোচ্যসূচি জেনে গেছেন সাকিব। সেই আলোচ্যসূচি নিয়ে পড়াশোনাও শুরু করে দিয়েছেন। গতকাল রোমাঞ্চিত বলছিলেন, প্রথম সভায় যাওয়ার আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না সাকিব।
এমসিসির ১৫ সদস্যের এই ক্রিকেট কমিটিতে রয়েছেন মাইক গ্যাটিং, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা, সৌরভ গাঙ্গুলি, ইয়ান বিশপ ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো সাবেকরা। তাদের সাথে কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করার ব্যাপারে সাকিব বলছিলেন, ‘এখনও প্রস্তুতি নেইনি। তবে প্রস্তুতি থাকবে। কারণ অনেকগুলো এজেন্ডা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে আলোচনা হবে। ওই এজেন্ডাগুলো আমি জানি, এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এখন যেটা হবে এগুলো নিয়ে একটু পড়াশুনার বিষয় আছে। একটু বোঝার ব্যাপার আছে। এগুলো নিয়ে যেহেতু আলোচনা হবে তাই অপ্রস্তুত অবস্থায় তো যাওয়া ঠিক হবে না।’
সাকিব বলছিলেন, এমসিসির এই বৈঠকের দু’দিনে যে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা তাদের পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘ওইখানে দুইদিন যে মিটিং হবে দুইদিনের এজেন্ডা সব দেওয়া আছে। বাইরে যদি আলোচনার সুযোগ আসে তবে সেটা করা যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেটা করা আছে ওইখানে স্পেসিফিকভাবে বলা আছে কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং ওইগুলো নিয়েই আলোচনা হবে।’
এই আলোচ্যসূচির মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটের বিভিন্ন দিক আছে। সেসব নিয়ে আলোচনা করবেন সাকিবরা। তবে এর বাইরে থেকে নতুন করে কিছু আলোচনায় তোলার পরিকল্পনা সাকিবের নেই, ‘আছে টেস্ট ক্রিকেট নিয়েই অনেক কিছু। এগুলোই ওইখানে আলোচনা করবে এবং চিন্তা করবে কোন্টা করলে আসলে ভালো হয় না হয়। এখানে প্রস্তাব করার কিছু নেই আসলে। এখানে এজেন্ডা ঠিক করা আছে ওইগুলোই আলোচনা করা হবে আসলে। যার মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটও থাকবে।’
আলোচনা শেষ পর্যন্ত যাই হোক, এটা অনেক বড় একটা সম্মানের বিষয়। এই এমসিসির ক্রিকেট কমিটিই কার্যত পৃথিবীর ক্রিকেট আইন ও নীতির ভিত্তিটা সুপারিশ করে দেয়। বিশ্বের খ্যাতনামা সব সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত হয় এই কমিটি। এবার কমিটির চেয়ারম্যান ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং। আগের কমিটির বিদায়ী চেয়ারম্যান মাইক ব্রিয়ারলির জায়গা নিলেন তিনি। এমন সম্মানজনক একটা বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে সাকিব স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত, ‘রোমাঞ্চিত অবশ্যই। আমার কাছে মনে হয় এটা অনেক বড় সম্মাননা। পাশাপাশি দায়িত্বও। এর আগে যখন এই মিটিং হয়েছে তখন বাংলাদেশের কেউ ছিলো না। আমরা কি সুবিধা পাই কিংবা কি অসুবিধা মোকাবেলা করি এসব নিয়ে ওদের ধারণা কম থাকতো। যেগুলো আমি হয়তো শেয়ার করতে পারবো।’
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply