তাকে অধিনায়ক হিসেবে নানা সময়ই কল্পনা করা হয়েছে। তিনিও অধিনায়কত্ব নিতে অরাজি নন। কিন্তু এমন করে সাকিব আল হাসান ছাড়া দলটা চাননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ সামনে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সাকিব আমাদের টিমের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ওকে না পাওয়াটা দলের জন্য অনেক বড় একটা বিপর্যয়ই বলতে হবে। ওর মত একটা টপক্লাস প্লেয়ার মিস করাটা দলের জন্য ক্ষতিকর। তারপরও বলবো দিনশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশ টিমের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা সকলের জন্যই একটা বড় সুযোগ। সকলেরই উচিত দলের জন্য ভালো কিছু করা।’
শ্রীলঙ্কার সাথে টেস্ট ম্যাচ সামনে রেখে টাইগার শিবিরে সবাই উজ্জীবিত হয়ে রয়েছে জানিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘প্রত্যেক প্লেয়ারেরই একটা স্বপ্ন থাকে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার। সেই দৃষ্টিকোন থেকে অধিনায়ক হিসেবে আমিও কিছুটা উজ্জীবিত অবস্থায় রয়েছি। দলের সবাই ভালো খেললে অধিনায়কের কাজটা সহজ হয়ে যায়। আমার চেষ্টা থাকবে যাতে দলগতভাবে আমরা সবাই ভালো খেলি। এই দলীয় চেতনাটাই আমাদের প্রধান শক্তি। দলে সবাই কমবেশি অভিজ্ঞ প্লেয়ার। তারা সবাই সহযোগিতা করে। সেদিক থেকে আমার জন্য কাজটা অনেক সহজ বলেই মনে করি।’
সাকিবহীন এই দলটাকে নেতৃত্ব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘আগেই বলেছি ক্রিকেটারদের জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আপনি ব্যক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জটা কিভাবে নিচ্ছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি পজিটিভলি দেখেন তাহলে পজিটিভ আর যদি মন খারাপ করে সেগুলো নিয়ে বসে থাকেন তাহলে কোনো লাভ হবে না। সবসময় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। আর টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে আলাদা একটি ফরম্যাট। পাঁচটা দিনই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সেশন বাই সেশন খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যে টিমটা আছে আমরা যদি সব সিদ্ধান্ত পজিটিভলি নিতে এবং বাস্তবায়ন করতে পারি ভালো একটা রেজাল্ট আসবে।’
চট্টগ্রামের উইকেট যে স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে, সেটা লুকানোর চেষ্টা করলেন না এই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ‘চট্টগ্রামের উইকেট ফ্ল্যাট। কিছুটা স্পিনও থাকে। আমাদের ব্যাটসম্যান এবং বোলারদের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রথমে বোলিং করলে তাড়াতাড়ি উইকেট নিতে হবে। ব্যাটিং করলে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে হবে যাতে বড় স্কোর দাঁড় করাতে পারি।’
অধিনায়ক হিসাবে তাকে কেমন দেখা যাবে জানতে চাওয়া হলে অধিনায়ক বলেন, ‘কাজে কোনো ছাড় দেয়া যায় না। আমিও খেলার মাঠে কোনো কিছুতে ছাড় দেব না। যেই হোক আর যেভাবে হোক তাকে যতটা সম্ভব সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করব। সেটা কঠোর হয়েই হোক আর ভালোভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েই হোক। দিন শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং বাংলাদেশকে ভালো কিছু দিতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’
মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মাথা ঠান্ডা রাখাটাকেই মূল ব্যাপার বলে বলছেন রিয়াদ, ‘মাঠের মধ্যে অনেক সময় অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই সিদ্ধান্তগুলো মাঝে মধ্যে এদিক সেদিক হয়ে যায়। অধিনায়কদের একটা বড় গুণ হচ্ছে মাথা ঠান্ডা রাখা। আমি বিশ্বাস করি আপনি মাথা যত ঠান্ডা রাখবেন ততই আপনার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। চেষ্টা করব সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করতে। নিজের পারফর্মেন্স দিয়ে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করতে চেষ্টা থাকবে আমার।’
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply