বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:১৬

শিরোনাম :
দলের সঙ্গে ছবি তোলার সময়ও নেই সাকিবের

দলের সঙ্গে ছবি তোলার সময়ও নেই সাকিবের

dynamic-sidebar

আগের দিন বিকেলে আইপিএল খেলে ভারত থেকে দেশে ফেরা সাকিব আল হাসান কাল মাঠেও এলেন। তবে ১ মে আয়ারল্যান্ডের পথে দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অনুশীলন শিবিরের শেষ দিনে দলের সঙ্গে গা ঘামাতে নয়। দুপুরে সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করতে এসে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে কিছুটা সময় কাটানো এই অলরাউন্ডার বিশ্বকাপের জার্সিসহ অন্যান্য পোশাক-আশাকও বুঝে নিলেন। সেসব নিয়ে ড্রেসিংরুমের দরজা ঠেলে বের হওয়ার সময় ভেতর থেকে কেউ একজনের কণ্ঠও শোনা গেল, ‘দুপুরে ফটোসেশন আছে তো।’ সাকিব তাতে ভ্রুক্ষেপ করলেন সামান্যই, ‘আমার অত টাইম নেই।’

সত্যিই সাকিবের সময় হলো না। না থাকলেন তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান ও বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের মধ্যাহ্নভোজে। না থাকলেন বিকেলে বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচনের ছোট্ট আনুষ্ঠানিকতায়। এমনকি থাকলেন না বিশ্বকাপ দলের আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনেও। তাই ফ্রেমটি অসম্পূর্ণই থেকে গেল। সেখানে যে ফ্রেমবন্দি হলেন ১৫ জনের দলের ১৪ জন, সাকিবকে ছাড়াই!

যে ঘটনায় দুঃখ লুকালেন না বিসিবি সভাপতি নাজমুলও, ‘‘দুঃখজনক। আর কী বলব! এটি দুঃখজনক। যেহেতু দলের ফটোসেশন ছিল। আমি এসে তারপরও জিজ্ঞেস করেছি। সত্যি বলতে যখন আমি স্টেডিয়ামে ঢুকছিলাম, তখনো ফোন করেছিলাম সাকিবকে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় তুমি?’ ও বলল, ‘আমি তো চলে এসেছি।’ ও যে বাংলাদেশে এসেছে, তা আমি জানতাম না। পত্রিকায় দেখেছি। আমার সঙ্গে ওর যোগাযোগ হয়নি। সাকিব বলল, ‘আপনার বাসায় আসব রাতে।’ আমি বললাম, ‘কেন? এখনই তো দেখা হবে।’ ও বলল, ‘না, আমি বেরিয়ে গেছি।’ আমি তারপরও (বিসিবিতে) এসে জিজ্ঞেস করলাম। আমাকে বলা হলো যে সাকিবকে আগেই জানানো হয়েছে যে আজ দলের ফটোসেশন আছে। জাতীয় দল বিশ্বকাপে যাচ্ছে এবং সে তাতে থাকবে, আমরা এটিই আশা করেছিলাম। এমনিতেই তো দলের অনুশীলনে ছিল না। কিন্তু সে নেই। এটিই বাস্তবতা।’’

এই না থাকাকে বরং সাকিবের দুর্ভাগ্য বলেই মনে হচ্ছে তাঁর, ‘আমি মনে করি, এটি ওর জন্যই দুর্ভাগ্য। আমাদের বিশ্বকাপ দল যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে যে সে থাকতে পারল না, আমি মনে করি ওরই কপাল খারাপ। আর কী বলব!’ অবশ্য দলের সঙ্গে একাত্ম না হওয়ার এই চর্চা সাকিবের নতুন নয়। গত বছর জুনে দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে সাকিব ভারতে গিয়েছিলেন আলাদাভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়ার সময়ও তাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের সময়ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সিরিজ বা টুর্নামেন্ট পূর্ব অনুশীলনেও তাঁর উপস্থিতি গত কয়েক বছরে ভীষণ কম। যদিও ‘ক্রিকেটার অন্তপ্রাণ’ হেড কোচ স্টিভ রোডসের এ বিষয়ে বরাবরই নমনীয় থাকা অপ্রত্যাশিত নয়। এই ইংলিশ কোচ সাকিবের পক্ষে ব্যাট করে গেলেও তাঁর এহেন কর্মকাণ্ড দলীয় সংহতির জন্য ক্ষতিকারকই হওয়ার কথা।

নাজমুল সে সম্ভাবনা এ জন্যই দেখছেন না, ‘আমার মনে হয়, দলের অন্যরা এত দিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ওর এসব ব্যাপারে। যাই হোক, এ ছাড়া আর কী বলব!’ বোর্ড সভাপতির শেষ বাক্যে যেন ফুটে ওঠে অসহায়ত্ব। যদিও বিসিবি সাকিবের এ রকম আচরণের সঙ্গে অভ্যস্ত হবে কি না, এমন প্রশ্নে ফুঁসেও উঠেছেন নাজমুল। যাঁর সময়ে সাকিবকে ‘গুরুতর আচরণগত সমস্যা’র জন্য দুইবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একবার তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাকিব পরেরবার নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ছয় মাসের জন্য। তবে এবার কঠোর হতে না পারার কারণও ব্যাখ্যা করলেন বিসিবি সভাপতি, ‘প্রশ্নই ওঠে না। প্রশ্নই ওঠে না। যেহেতু পরশু দিনই দল চলে যাচ্ছে, এটি নিয়ে তাই বেশি কথা বলছি না আমরা।’ অবশ্য সময় থাকতেও গত কিছুদিনে সাকিব ইস্যুতে কঠোর হতে পারেনি বিসিবি। এই অলরাউন্ডারের আইপিএলে খেলতে যাওয়া নিয়ে বোর্ডের শীর্ষমহলের অসন্তোষও চাপা থাকেনি। কিন্তু অনিচ্ছায় হলেও তাঁকে আইপিএল খেলার অনুমোদন তাঁরাই দিয়েছেন। বিশ্বকাপ অনুশীলন শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য নাজমুল চিঠি দিতে বলেছিলেন সাকিবকে। সেই চিঠি দেওয়ার পর ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খানও নিশ্চিত করেছিলেন যে প্রথম দিন না হোক, অনুশীলন শিবিরের দ্বিতীয় দিন থেকেই থাকবেন সাকিব। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে তাঁর ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সেই আকরামকেই আবার পরে বলতে শোনা গেছে, ‘আমাদের মনে হয়েছে ও (আইপিএলে) থেকে এলেই ভালো।’

চিঠি দিয়েও সাকিবকে আগেভাগে দেশে আনতে ব্যর্থ বোর্ড এবার দেখল, এই অলরাউন্ডার উপেক্ষা করলেন ফটোসেশনও!

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net