, ,

বরিশালে নারীলোভি শিক্ষককে রক্ষায় স্কুল কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাপ!, তোলপাড়

বরিশালে নারীলোভি শিক্ষককে রক্ষায় স্কুল কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাপ!, তোলপাড়

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক এনামুল হক নিজামী নাসিমের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজের ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে স্কুললের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করে আসছেন তিনি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুছাত্রীরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে শিক্ষক নাসিমকে রক্ষায় শিক্ষকসহ স্থানীয় ব্যক্তি বিশেষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এমনকি গত শনিবার রাতে তারা স্কুলটিতে গোপন বৈঠকও করেছেন বলে আলোচনায় এসেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক নাসিম শহরের গোড়াচাদ দাশ রোডের কালভার্ট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসার নিচতলায় হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদে কোচিং করাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে- গত সপ্তাহের বুধবার কোচিং শেষ হলে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পড়ার অজুহাতে কৌশলে কোচিং সেন্টারে রেখে দেন। অন্য ছাত্রীরা চলে গেলে ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন শিক্ষক নাসিম। এ সময় ছাত্রীটি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষক নাসিম একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে এ ধরণের আচারণ করেছেন। এমনকি প্রায়ই অশ্লীল ও কু-প্রস্তাব দেওয়াসহ জোরপূর্বক কোচিং করনোর অভিযোগেও তিনি বিদ্ধ। কিন্তু এবারে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর খবরে সহপাঠিরা ফুঁসে উঠেছে। প্রতিবাদস্বরুপ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেওয়ালে ‘নাসিম স্যার থেকে সাবধান এমন শ্লোগান’ সংবলিত কাগজ সাটিয়েছে। তবে সেই কাগজ শিক্ষক নিজেই ছিড়ে ফেলেছেন বলে শোনা গেছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেন- কয়েকদিন আগে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার মেয়েকে কোচিং সেন্টারে ডাকেন তিনি। ওই কোচিংয়ে তার একটি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীকে জানানো হয়। কিন্তু স্কুলছাত্রী কোচিংয়ে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। এসময় শিক্ষক নাসিম তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে প্রমোশন দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

এই বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুজ্জামানকে অবহিত করলে তিনি শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন শিক্ষককে রক্ষায় মাঠে নেমেছে।

অপর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানিয়েছেন এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তোলপাড় চলছে। কিন্তু রমজানের কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তেমন আলোচনা নেই।

এই সুযোগে শনিবার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক নাসিমসহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বৈঠক করেন। এমনকি সেখানের সিদ্ধান্তের আলোকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থী পরিবারকে ‘ম্যানেজ’ পায়তারা শুরু করেছেন|

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুজ্জামান বলছেন- এই ধরনের কোন বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত নন। কিন্তু সংবাদকর্মীর নানামুখী প্রশ্নে তিনি পরক্ষণে স্বীকার করেছেন- একটা অভিযোগ তার কাছে জমা রয়েছে। তিনি সেটি সহকারি প্রধান শিক্ষককে তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হক নিজামী নাসিমকে ফোন দিয়ে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়া পরে কেটে দেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।’

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net