বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:০১

শিরোনাম :
ভারতকে বিদায় করে আবার ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

ভারতকে বিদায় করে আবার ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

dynamic-sidebar

স্পোর্টস ডেস্ক : ফেভারিট ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলো নিউজিল্যান্ড। বুধবার রিজার্ভ ডেতে গড়ানো ম্যাচে ১৮ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে তারা। মাত্র ২৪০ রানের টার্গেট দেওয়ার পর বোলিংয়ে দুর্দান্ত শুরু হয় কিউইদের। কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজার চমৎকার জুটিতে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখে ভারত। কিন্তু এই জুুটি ভাঙতেই কাঙ্ক্ষিত জয় নিশ্চিত করে কেন উইলিয়ামসনের দল।

ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্টের গতির সঙ্গে মিচেল স্যান্টনারের স্পিনে সহজ জয়ের আভাস পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৯২ রানে ভারতের ৬ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু হাল ছাড়েনি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। অসহায় আত্মসমর্পণের শঙ্কায় থাকা ভারত ঘুরে দাঁড়ায় ধোনি ও জাদেজার ব্যাটে। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে একসময় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বিরাট কোহলির দল।

তবে জাদেজাকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু আনেন ট্রেন্ট বোল্ট। ১১৬ রানের এই জুটি ভাঙার পর আর টিকতে পারেনি ভারত। ইনিংস শেষ হওয়ার আগের ওভারে ফিরে যান ধোনিও। আর ৫ রান যোগ করতে শেষ দুটি উইকেট হারায় ভারত। তাতেই ১৪ জুলাই লর্ডসে ফাইনাল খেলার টিকিট পায় কিউইরা।

মঙ্গলবার নির্ধারিত সেমিফাইনালে বৃষ্টির আঘাতে খেলা স্থগিত হওয়ার আগে ৪৬.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২১১ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। রিজার্ভ ডেতে গড়ানো ম্যাচে বুধবার আর বেশি রান যোগ করতে পারেনি তারা। ৮ উইকেটে করে ২৩৯ রান। এরপর ৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা দেয় তারা ভারতকে। শেষ পর্যন্ত দারুণ লড়াই করেও ৪৯.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় ভারত।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ম্যাট হেনরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নেন। কিউই পেসারের তৃতীয় বলে রোহিত শর্মা ক্যাচ দেন পেছনে থাকা টম ল্যাথামকে। বোল্টও পরের ওভারে বিরাট কোহলিকে ফেরান। এলবিডাব্লিউর সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ভারতীয় অধিনায়ক। হেনরি তার দ্বিতীয় ওভারে আউট করেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুলকে। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকে মাত্র ১ রান করে আউট হন।

এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগেছে ভারতের। প্রথম পাওয়ার প্লেতে মাত্র ২৪ রান তোলে তারা স্কোরবোর্ডে। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার মুহূর্তে আরও একটি উইকেট পড়ে তাদের। দিনেশ কার্তিক ৬ রানে হেনরির বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে জিমি নিশামের দুর্দান্ত ক্যাচ হন।

২৪ রানে ৪ উইকেট হারানো ভারতকে টেনে তোলেন ঋষভ পান্ত ও হার্দিক পান্ডিয়া। প্রতিরোধ গড়া এই জুটি অবশ্য পঞ্চাশ ছুঁতে পারেনি। মিচেল স্যান্টনার তার দ্বিতীয় ওভারে পান্তকে ৩২ রানে ফেরান, ৫৬ বল খেলে চারটি চারে সাজানো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ক্যাচ নিলে। ৪৭ রানের জুটি ভাঙার পর পান্ডিয়াও বিদায় নেন দ্রুত। তিনিও ৩২ রান করে স্যান্টনারের শিকার হন, কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ হন।

ধুঁকতে থাকা ভারত দারুণ লড়াইয়ে ফেরে ধোনি ও জাদেজার ব্যাটে। সাবেক অধিনায়ক একপ্রান্ত আগলে সতর্ক খেলেন, আর জাদেজা ছিলেন মারকুটে। ৩৯ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে পঞ্চাশ ছোঁন তিনি। তাদের একশ ছাড়ানো জুটি যেন অবিশ্বাস্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

তবে ৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ১১৬ রানের জুটিটি বিচ্ছিন্ন করে ব্রেক থ্রু আনেন ট্রেন্ট বোল্ট। জাদেজার জোরালো শটে লং অফে অনেক উঁচু থেকে নামা বলটি ঠাণ্ডা মাথায় ধরেন উইলিয়ামসন। ৫৯ বলে চারটি করে চার ও ছয়ে ৭৭ রানে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে কিউইরা।

যদিও ধোনি পরের ওভারের প্রথম বলে লকি ফার্গুসনকে ছয় মেরে আশা বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু দুটি রান নিতে যাওয়ার আগেই মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। অবশ্য প্রথম রান নিয়েই হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি।

ধোনির আউটে ভারতের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়। ৭২ বলে একটি করে চার ও ছয়ে ৫০ রান করেন তিনি। ওই ওভারের শেষ বলে ফার্গুসন বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর কুমারকে। পরের ওভারে নিশাম ৫ রানে যুজবেন্দ্র চাহালকে ল্যাথামের ক্যাচ বানিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

টপ অর্ডারে ধস নামানো হেনরি হয়েছেন ম্যাচসেরা। ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ৩৭ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেটও তার। দুটি করে পান স্যান্টনার ও বোল্ট। ফার্গুসন ও নিশাম নেন একটি করে উইকেট।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net