স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ-উল আযহাকে ঘিরে দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে পরছে দেশ। তাই বিগত সময়ের মতো এবারও সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে যাত্রীদের চাঁপ থাকবে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে নৌপথে যাত্রীদের চাঁপ একটু বেশিই থাকবে। আর যাত্রীদের বাড়তি চাঁপ সামাল দিতে নৌপথে লঞ্চ ও সরকারী স্টিমার-জাহাজের স্বাভাবিক সার্ভিসের পাশাপাশি এবারও থাকছে স্পেশাল সার্ভিস।
ঈদ স্পেশাল সার্ভিসকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিলাসবহুল ও যাত্রীবহুল ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে আগাম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে কোনো কোনো লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বিগত দিনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কেবিন ও সোফার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র (স্লিপ) গ্রহণ করছেন। এখন চলছে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। যা শেষ হলে যাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাঙ্খিত টিকিট। আবার অনেক লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বিগত দিনের ধারবাহিকতা বজায় রেখে সরাসরি আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে কেবিন ও সোফার টিকিট বিক্রি শুরু করে দিয়েছে।
তবে বেশিরভাগ লঞ্চের অগ্রিম টিকিট আগামি ১ আগস্ট থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রীবাহী নৌপরিবহন সংস্থার (যাপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু। তিনি বলেন, স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে এখনো পুরোপুরিভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামি ১ অথবা ২ আগস্ট ঢাকায় লঞ্চ মালিকদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে যেহেতু ১২ আগস্ট (সোমবার) ঈদ-উল আযহা, তাই ৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরুর সম্ভাবনাই বেশি রয়েছে। যা ঈদের পর ২০ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে। তাই ১ আগস্ট থেকে সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির লঞ্চগুলোর বিশেষ সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের সুরভী লঞ্চ কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ফারহান হোসেন জানান, ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে অগ্রিম টিকিটের আবেদন গত ২৩ জুলাই সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে যাচাই বাছাইও প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ২/১ দিনের মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে টিকিট পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে সালমা শিপিং লাইন্সে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস বলেন, আগের নিয়মেই আমরা কীর্তনখোলা লঞ্চের ঈদ সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছি। স্টক শেষ হওয়া পর্যন্ত যিনি আগে আসবেন তিনিই টিকিট আগে পাবেন। সূত্রমতে, ঈদ-উল আযহায় বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে এমভি কুয়াকাটা-২ নামের আরও একটি বিলাসবহুল লঞ্চ। গত ২৬ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে ঢাকায় যার চূড়ান্ত ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে। আগস্টের প্রথমদিকেই লঞ্চটি নৌবহরে যুক্ত করার আশা করেছেন লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী আবুল কালাম খান।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ২৮ জুলাই ঢাকায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে ঈদ-উল আযহা সম্পর্কিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠক থেকেই বিশেষ সার্ভিসসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে বর্তমানে দিবা সার্ভিসের ওয়াটার বাসসহ মোট ২৩টি নৌযান নিয়মিত চলাচল করছে। তবে ঈদ-উল আযহায় এই রুটে এমভি কুয়াকাটা-২ নামের নতুন আরও একটি লঞ্চ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগের মতো এবারও ঢাকা-মোড়লগঞ্জ ভায়া বরিশাল নৌরুটে সংস্থার পাঁচটি নৌযানে বিশেষ সার্ভিস দেওয়া হবে। যা আগামি ৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলবে ঈদের পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত। বিশেষ সার্ভিসের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১ আগস্ট থেকে। যা ঢাকা থেকে বা অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং দেওয়া যাবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply