, ,

শিরোনাম :
বরিশাল উজিরপুরের ইউএনও নিজেই খালে নেমে ময়লা পরিষ্কার করলেন! ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাড. হাফিজের শপথ গ্রহণ খুঁটির বিদ্যুৎ চুরি করে ইজিবাইক চার্জের ব্যবসা, জব্দ তার ও চার্জার ৩ হাজার রোগীর সরকারি হাসপাতালে খাবার বন্ধের শঙ্কা বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন বরিশালের সাইফা ‘গ্রাম পুলিশ হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের সরকার’: জহির উদ্দিন স্বপন নতুন এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন প্রান্তিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি স্বপন

বায়না আর মিটবে না অবুঝ শিশুর

dynamic-sidebar

স্টাফ রিপোর্টার:বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে পড়াশুনা করে ২০০৩ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মনোয়ার। কিন্তু চাকরিতে যাওয়ার আগেই পুলিশ সদস্য বাবা রফিকুল ইসলাম ও বড় ভাই আনোয়ার হোসেনকে চিরদিনের জন্য হারান তিনি। তাই অনেকটা পরিবারের হাল ধরতেই যেন তার সেনাবাহিনীতে যোগদান।
আর আজ তাকেই হারিয়ে ফেলার বেদনায় শোকের মাতম চলছে তার বাড়িতে। ৭ বছরের ইলমুন ও দেড় বছরের তাসনিম বাবা হারানোর বেদনা এখনো ততোটা উপলব্ধি করতে না পারলেও মা রওশন আরা বেগম আর স্ত্রী ইভা আক্তার যেন শোকে পাথর। কোন শান্তনা তাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না।
রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) আফ্রিকার দেশ মালিতে দায়িত্ব পালন শেষে ক্যাম্পে ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। যাদের মধ্যে সৈনিক মো. মনোয়ার হোসেন (৩২) একজন। মনোয়ারের গ্রামের বাড়ি বরিশালের চন্দ্রমোহনে হলেও বর্তমানে নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপাশা এলাকায় একখণ্ড জমির ওপর তার পরিবারের বাস।
সেখানেই থাকেন মনোয়ারের মা, স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান। ছোট ভাই রবিউলের পুলিশে চাকরি হওয়ার সুবাদে তিনি খুলনায় ট্রেনিং এ রয়েছেন। আর সবার বড় বোন জোহরা বিয়ের পর চলে গেছেন স্বামীর সংসারে।
নিহত সেনা সদস্যের মামা আতিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ১০ বছর আগে চন্দ্রমোহন এলাকার মো. কবির হাওলাদারের মেয়ে ইভা আক্তারকে বিয়ে করেন মনোয়ার। চাকরি নেয়ার পর ১০ বছর আগে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চহুতপুর এলাকায় এক খণ্ড জমি কিনে টিনের ঘর তৈরি করে সেখানে পরিবার-পরিজন রেখে যশোর ক্যান্টনমেন্টে সৈনিকের চাকরি করছিলেন মনোয়ার। বাবা না থাকায় বৃদ্ধা মাকেও নিজের বাসায় এনে রাখেন তিনি। এরই মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার সুযোগ হলে গত ৩০ মে (২ রমজান) মিশনে যান মনোয়ার। মিশনের যাওয়ার পর ফোনে স্ত্রী, সন্তান, মাসহ নিকট আত্মীয়দের খোঁজ খবর নিয়মিতই নিতেন তিনি।
স্ত্রী ইভা আক্তার বলেন, এক বছরের জন্য শান্তিরক্ষা মিশনে মালি যাওয়া মনোয়ারের স্বপ্ন ছিলো সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার। সব শেষ শনিবার বাবার সাথে ফোনে কথা বলার সময় আঙ্গুর, আপেল আর আম নিয়ে আসার বায়না ধরেছিলো বড় মেয়ে ইলমুন। কিন্তু বাবা আসবে, তবে আঙ্গুর আপেল নিয়ে নয়, নিজের নিথর দেহটার শেষ দর্শন দিতে আসবে।
৭ বছরের শিশু ইলমুন স্থানীয় এক মাদ্রাসায় পড়ে। দেড় বছরের শিশুটি অসুস্থ হওয়ায় তার চিকিৎসা চলছে। রোববার রাতের লঞ্চে শিশু সন্তানকে নিয়ে সেনা হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতিও নেয়া ছিলো ইভা আক্তারের। যা স্বামী মনোয়ার আগে থেকেই বলে রেখেছিলেন।
কিন্তু রোববার বিকেলে সেনা সদর দপ্তরের এক মোবাইল মেসেজে সব কিছু এলামেলো হয়ে যায় সৈনিক মনোয়ারের পরিবারের। তারা জানতে পারে, মনোয়ারের মৃত্যুর খবর।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মনোয়ার খুবই মিশুক এবং শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। অল্পতেই মানুষের মন জয় করতে পারতেন। তার মৃত্যুর খবরে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন তারাও।
সরকারের প্রতি মনোয়ার হোসেনের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তার শ্বশুর কবির হাওলাদার।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net