নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে বরিশাল নগর জুড়ে আরেক গুজবে মেতেছে জনসাধারণ। আম গাছে থেকে মধু ঝড়ছে এমন রটনা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ায় সবার দৃষ্টি যাচ্ছে গাছের দিকে। কিছু কিছু গাছে তরল সদৃশ বস্তু দেখে সে গুজবে আরো হালে হাওয়া লেগেছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় আম গাছেই মুকুলে ভরপুর। দেশী জাতের আম গাছগুলো মুকুলের ভাড়ে শাখা ডালপালা গুলো ভেঙে পড়ার মত পরিস্থিতি হচ্ছে। মুকুলের ভারে গাছের শাখা ডালপালা মাটিতে হেলে পড়ছে, রাস্তার পাশে কিংবা পাড়া মহল্লায় বসতি বাড়িতে দেশী আমের গাছগুলো মুকুলে মুকুলে ভরপুর। হালকা শীতের সকালে শীতল বাতাসে মুকুল থেকে মৌ মৌ ঘ্রাণ ভেসে আসছে। মুকুলে মুকুলে মধু আহরণে ছুটে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল। তবে মৌচাক ছাড়া পাতায় তরল পদার্থ কোথা থেকে আসছে সে কৌতুহলের উত্তর পাচ্ছেন না কোথাও।
সরেজমিনে, ২৯নং ওয়ার্ড খালপাড় সড়ক এলাকা, পলাশপুর, রূপাতলী, কাউনিয়া বিসিক, বটতলা, চৌমাথা সহ বিভিন্ন এলাকায় এ দৃশ্য চোখে পড়েছে। উৎসাহীরা ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করছেন।
তারা জানান, এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেন নি। এক ব্যাক্তি পাতা থেকে সে তরল মুখে নিয়ে এর স্বাদ মধুর মতো বলে জানান। অনেকে গাছের নিচে পলিথিন বিছিয়ে সে তরল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এমন সময় এটাকে সৃষ্টিকর্তার রহমত বলেও প্রচার করছেন। তবে গাছে এমন দেখা যায় নি, একই গাছের অল্প কয়েক পাতায় এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।
নগরীর এক কৃষিবিদ জানান, শুঁটি মোল্ড বা মহালাগা রোগের আক্রমণে আম পাতা ও ফলের ওপর কালো আবরণ পড়ে। আম গাছে মিলিবাগ অথবা হপার পোকায় আক্রমণ করলে এরা হানিডিউ বা মধু নিঃসরণ করে, ফলে হানিডিউতে শুঁটি মোল্ড সৃষ্টিকারী ছত্রাক জন্মায় এবং পাতা, মুকুল এবং ফলে তা বিস্তার লাভ করে। এ রোগে আক্রান্ত গাছে বেনডাজিম ৫০ ডব্লিও প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। গাছে হপার পোকার আক্রমণ হলে সাথে সাথে তা দমন করতে হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply