নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝুঁকি নিয়ে নদী পথে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলে আসার সময় দুই দিনে ২৬১ জন শিশু, নারী ও পুরষকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ।এছাড়াও বেশ কিছু লোকজনকে স্ব-স্থানে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আর আটককৃতদেরও পর্যায়ক্রমে স্ব স্থানে ফিরিয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, করোনার সংক্রমন রোধে সম্প্রতি বরিশালকে লকডাউন ঘোষনা করার পর জেলার নদীগুলোর সীমানা লাইনে নজরদারি আরো জোরদার করেন।যার ধারবাহিকতায় বরিশাল জেলায় প্রবেশের মুখে হিজলায় নৌ পুলিশের অভিযানে সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনে মোট ৯০ জনকে আটক করা হয়।
এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জে নৌ পুলিশের অভিযানে মঙ্গলবার ১৭১ জনকে আটক করা হয়।হিজলা নৌ পুলিশের এসআই সঞ্জয় মন্ডল জানান, তাদের আওতাধীন এলাকা থেকে আটক ১২ নারী ও ১২ শিশুসহ ৯০ জনকে হিজলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার সিকদার জানান, নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে লকডাউনে থাকা বরিশাল জেলায় প্রবেশকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে স্ব স্থানে নিয়মানুযায়ী পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে মেহেন্দিগঞ্জ নৌ-পুলিশের এসআই মেহেদি জামান জানান, মঙ্গলবার ভোলা থেকে ৯ নারী ও ৯ শিশুসহ ১৭১ জন যাত্রী একটি বাল্কহেডে করে ভোলা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য বরিশালের দিকে আসে। এদেরমধ্যে বেশিরভাগই ইটভাটার শ্রমিক। তবে তাদের বাল্কহেডসহ আটক করে রাখা হয়েছে বুধবার তাদের আবার ভোলার উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠানো হবে।নৌ-পুলিশ বরিশাল জোনের পরিদর্শক আবু তাহের জানান, বর্তমানে সড়ক পথে যাতায়াতে সুবিধা করতে না পেরে কেউ কেউ নৌ-পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে, অনেকেই ট্রলারসহ পন্যবাহি বিভিন্ন নৌযানে ঝুঁকি নিয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে।এতে করোনার সংক্রমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আর সংক্রমন রোধে নদীতে টহল বাড়ানো হয়েছে।যেখানে বরিশাল-মজুচৌধুরীরহাট রুটের দোয়েলপাখি-১ এবং পারিজাত নামক দুটি লঞ্চে মেঘনা নদীর সীমানায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আজ থেকে এমভি সম্পা নামে আরো একটি লঞ্চের সহায়তায় টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।এ বিষয়ে বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের এসপি কফিল উদ্দিন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের ১৩ টি ফাঁড়ি, ২ টি থানার সকল সদস্য তাদের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।এছাড়া নদীতে স্পেশাল তিনটি টিম ভাসমান অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে।
এককথায় ১৮ টিম সদা দায়িত্ব পালন করছে।বরিশাল জেলায় আগতদের মধ্যে বেশিরভাগ ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বরিশাল জেলা লকডাউন ঘোষনার পর এখানে যাতে কেউ প্রবেশ বা বাহির হতে না পারে সেজন্য নদীর সীমানাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত বরিশালে প্রবেশের সময় যারা আটক হয়েছেন তাদের স্ব-স্থানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply