, ,

শিরোনাম :
এক দশকে বরিশালে হারিয়েছে ১ হাজারের বেশি পুকুর ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতা দল থেকে বহিষ্কার সুগন্ধা নদীর ভাঙন : নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে বাবুগঞ্জ বাজার-বিমানবন্দর পটুয়াখালীর গলাচিপায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩৫ লিটার চোলাই মদ ও গাঁজাসহ পিতা-পুত্র আটক একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার নাশকতার মামলায় আ’লীগের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, বাকেরগঞ্জে চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের নাপা ছাড়া মিলছে না ডেঙ্গুর চিকিৎসা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
বরিশালের কয়েকটি বাজারে ঠেকানো যাচ্ছে না জনসমাগম, করোনা সংক্রমনের শংকা

বরিশালের কয়েকটি বাজারে ঠেকানো যাচ্ছে না জনসমাগম, করোনা সংক্রমনের শংকা

dynamic-sidebar

তন্ময় তপু : ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশের নানা তৎপরতার পরও বরিশাল নগরীতে লকডাউন উপেক্ষা করে প্রয়োজন ছাড়াই বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খোলা হচ্ছে দোকান-পাটও। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। দেওয়া হচ্ছে অর্থদন্ড-কারাদন্ডসহ নানা শাস্তি। তবে বরিশাল নগরীর বাজারের অবস্থা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। প্রতিদিন মহানগরের ১৫টি বাজারে মানুষের ভীর ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবী পুলিশের কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তাই করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দিষ্ট দূরত্বে কয়েকটা বাজারে বিক্রেতাদের বসানো হলেও বড় বাজারগুলোতে জনসমাগম এড়ানো কষ্ট হয়ে দাড়িয়েছে। তবে সোমবার বিকালে বরিশালের ৯টি কাঁচা বাজার পার্শ্ববর্তী খোলা স্থানে স্থানান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। শুধু স্থানান্তর নয় নিয়মিত মনিটরিং এর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা গেছে, বরিশাল নগরীর নতুন বাজার, বাজার রোড, নথুল্লাবাদ কাঁচা বাজার, রুপাতলী বাজার ও পোর্ট রোড বাজারের মত বড় পাঁচটি বাজারে ভোর হলেই ক্রেতাদের ভীর বাড়তে থাকে। তবে এসব স্থানের বিক্রেতাদের সচেতনতা না থাকায় জনসমাগম তৈরী হয় এবং তারা জনসমাগম তৈরী করেই পন্য বিক্রি করে থাকেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পোর্ট রোড বাজারটিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে খুচরা মাছের বাজার অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং সেখানে সড়কের উপর যে কাঁচা বাজার বসতো তাও লঞ্চঘাট সংলগ্ন রাস্তার দুই পাশে নিয়ে আসা হয়। তবে এই বাজার ভোর থেকেই জমজমাট থাকায় মানুষের ভীরও থাকে প্রচুর। সকাল ৮টার আগ পর্যন্ত এই বাজার সাবেক স্থানেই চলতে থাকে। তবে ৮টায় পুলিশ আসার সাথে সাথেই খুচরা মাছ ব্যবসায়ী ও কাঁচা মাল ব্যবসায়ীরা পুলিশের নির্ধারিত স্থানে চলে যায়।

পোর্ট রোডের এক পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী জানান, এই বাজার ভোর বেলা থেকে জমজমাট থাকে। তাই পুলিশের কঠোর নির্দেশনা সত্বেও পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত মাছ ও কাঁচা বাজার ব্যবসায়ীরা তাদের সাবেক স্থানেই ক্রেতা সমাগম করে পন্য বিক্রি করে থাকে। তবে এখানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য থাকলেও ভীর সামলানো কঠিন।

সাইদুর রহমান নামে নগরীর এক বাসিন্দা জানান, দুপুরের দিকে বাজার রোডের বাজারে ঢুকতে গিয়েই বাধার সম্মুখীন হই পুলিশের। ভিতরে কোনো যানবাহন ঢুকতে দেয়া হবে না। কিন্তু যানবাহন না প্রবেশ করলেও ভিতরে ভীর ছিলো ব্যাপক। এরপর পোর্ট রোড বাজারে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। এমন থাকলে বরিশালে করোনা সংক্রমন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। যা আর কন্ট্রোলের সুযোগ থাকবে না।

অপরদিকে নগরীর নতুন বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ কাঁচাবাজারটির পরিধি বৃদ্ধি করলেও মানুষের জটলা একই স্থানে রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দোকানীদের বারবার নির্দেশনা দেয়া হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই বেঁচা কেনা চলছে বাজারটিতে। স্থানীয়দের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এই বাজারটির কাঁচা বাজার অংশ পার্শ্ববর্তী মথুরানাথ পাবলিক স্কুলে নেয়া হয়েছে বলে বিকালে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। তবে মূল বাজারে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করার দাবী তুলেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাজারের দিকে কঠোর নজর দিতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে দাবী তুলেছেন ক্রেতারা।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশালের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাজারগুলোতে কঠোর মনিটরিং দরকার। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা না গেলে এই বাজারগুলো থেকেই করোনা সংক্রমনের শংকা রয়েছে। তাই প্রশাসনের উচিৎ হবে গুরুত্বপূর্ন বাজারগুলোর দিকে কঠোর নজরদারি দেয়া।

এই বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান বলেন, করোনা সংক্রম এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সংক্রম এড়ানো সম্ভব। আমরা বাজার কমিটিগুলোতে বলেছি তাদের দোকানীরা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পন্য বিক্রি করে। এছাড়াও দিনের বেলা তরমুজের ট্রাক পোর্ট রোডে আসায় জনসমাগম বৃদ্ধি পায় তাই রাতের বেলা এই ট্রাকগুলোকে আসতে বলা হয়েছে। এতে করে মানুষের উপস্থিতি সেখানে কিছুটা কমেছে। আমরা আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net