মজিবর রহমান নাহিদ ॥ দেশের তরমুজের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয় বরিশাল অঞ্চল থেকে। ভালো স্বাদের পাশাপাশি আকারে বড় হওয়ায় এখানকার তরমুজের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। এবার আবহাওয়ার পাশাপাশি সব কিছু অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে এতে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটলেও সে হাঁসি এখন কান্নায় পরিনত হয়েছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের কয়েক কোটি টাকার তরমুজ। যানবাহন বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে তরমুজ পাঠাতে পারছেন না ব্যবাসায়ীরা। ট্রলার ও ট্রাকে সীমিতভাবে তরমুজ পাঠানো শুরু হলেও ভাড়া লাগছে কয়েকগুণ বেশি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের তরমুজ চাষী আমীর আলী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারনে আমার খেতের তরমুজ আমি বাজারে বিক্রি করতে পারিনাই। আমরা খুবই লোকশানে আছি এবার, টাকা পয়সা আড়ত দিয়া নিছি সেই টাকাও এখনও আমরা দিতে পারি নাই। সরকারের কাছে দাবী জানাই সরকার যদি আমাদের সাহায্য করে তাইলে আমরা ছেলে সন্তান লইয়্যা খানাপিনা খাইতে পারমু নাইলে আমাগো আখাওয়া মৃত্যু হইয়ে হইবে।’
সুমন ব্যাপারী নামে আড়ত মালিক জানায়, ‘তরমুজের চাষিরাও শেষ, আমরাও শেষ এবার, তরমুজ পাকার পরে পইচা যায় পরে এটাতো আর বেচতে পারিনা। বিভিন্ন জায়গা থেকে তরমুজ নিতে লোক আসে কিন্তু করোনার কারনে এরা আসতে পারেনা, তরমুজ বিক্রিও হইতেছে না।’
মিন্টু গাজী নামে আরেক আড়তদার জানায়, ‘আগে যেই তরমুজ আমরা ১ শ থেকে দেড়শ টাকা বিক্রি করতাম এবার আমরা সেই বিক্রি করি ২০ টাকা ৩০ টাকায়। আমাদের কয়েক লক্ষ টাকা এবার ক্ষতি হচ্ছে, সরকারের উচিত আমাদের দিকে একটু নজর দেয়া।’
বরিশালের আড়তগুলোতে এভাবেই পরে আছে তরমুজ -ছবি: অপূর্ব বাড়ৈ/বিডি ক্রাইম।
এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় প্রায় ২৪ হাজার ৬শ ৮৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। সাধারণত বছরের এ সময়টাতে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক-ডাকে জমজমাট থাকে বরিশালের বিভিন্ন আড়তগুলো। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কমে গেছে ক্রেতার সংখ্যা।
এদিকে কৃষকের দূরাবস্থার কথা অস্বিকার কওে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বরিশাল অঞ্চলে এবার ফলন ভালোই হয়েছে, তরমুজের আকারও ভালো হয়েছে। কিন্তু করোনার কারনে প্রথম দিকে বিক্রিতে একটু বাঁধা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে তরমুজ খুব ভালোভাবে বিক্রি হচ্ছে, বাজারজাত করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।’
তিনি আরও জানায়, ‘বর্তমানে ভোলার ৮৫ ভাগ, পটুয়াখালীর ৭৫ ভাগ, বরগুনার ৬০ ভাগ তরমুজ ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।’
করোনার প্রাদুর্ভাবে নানা সমস্যার কারেন তরমুজের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। অচিরেই সরকার তাদের দিকে সহযোগীতার হাত বাড়াবেন এমটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply