খান মনিরুজ্জামানঃ বরিশাল চরকাউয়া খেয়াঘাটে মাঝি – মাল্লা ও যাত্রীদের অসচেতনতার কারনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা সংক্রমনের ঝুকি। ট্রলারে সামাজিক দূরত্ব না মেনে প্রতিদিন এভাবেই হাজারও যাত্রী পারাপার হচ্ছে। তবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করনের ক্ষেত্রে নিস্ক্রিয় নৌ ফাড়ি পুলিশ, কোষ্টগার্ডের সদস্যরা।
বাসস্টান্ড, হাট বাজার, পাড়া মহল্লাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন অভিযানে নেমে সতর্ক করার পাশাপাশি আইন ভঙ্গের কারনে জরিমানা করছে।
বরিশাল নৌ-বন্দর এলাকার এই চরকাউয়া খেয়াঘাট ব্যাবহার করে প্রতিদিন বন্দর থানা এলাকা ও এর আশপাশের জেলা ও থানা থেকে বরিশাল শহরে যাতায়াত করে কয়েক হাজার মানুষ। তবে গুরুত্বপূর্ন এই খেয়াঘাটটিতে করোনা সংক্রামন রোধে প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহীনির পক্ষ্য থেকে দৃশ্যমান কোন নজরদারী বা তদারকি এখন পর্যন্ত না গ্রহন করায় করোনা ঝুকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
এবিষয়ে বাসদের বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডাঃ মনিষা চক্রবর্তি বলেন, দেশে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড ভাংছে। সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন শিথীল করা হচ্ছে, মার্কেট, গার্মেন্টস্ খুলে দেওয়া হচ্ছে তাতে করে করোনা আক্রান্তের ঝুকি বাড়ছে। বরিশাল চরকাউয়া খেয়াঘাটটি একটি গুরুত্বপূর্ন যোগাযোগের রুট। এখানে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করতে না পারাটা আইন শৃংখলাবাহীনি ও প্রশাসনের অনেক ব্যর্থতার পরিচয়। ট্রলারে গনপরিবহনের ক্ষেত্রে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা না গেলে করোনা সংক্রমনের ঝুকি বাড়তে পারে।
ইতিপূর্বে করোনা মোকাবেলায় তার দল বাসদ জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরন ও কিটনাশক ছিটিয়েছে, কর্মহীন মানুষদের ত্রান সহোযোগীতা, ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারেরর ব্যবস্থা,প্রাথমিক স্বাস্থসেবা , রোগী পরিবহনের জন্য ফ্রী এ্যামবুলেন্স সার্ভিসের পাশাপাশি নানান কর্মসূচি পালন করেছে।
করোনা মোকাবেলায় সর্বশেষ বরিশালের ৪০ টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ৮ টি রাজনৈতিক সংগঠনকে নিয়ে একটি ঐক্য গঠন করেছে। করোনা মোকাবেলায় স্বেচ্ছায় ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার জন্য গত কয়েকদিন পূর্বে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর তারা স্মারক লিপি ও তালিকা প্রকাশ করেছে।
ডাঃ মনিষা বলেন, জেলা প্রশাসন চাইলে আমাদের এই সংগঠনের সদস্যদের ট্রেনিং এর মাধ্যমে করোনা মোকাবেলায় যথাযত কাজে লাগাতে পারত। কিন্তু তারা সেটি করেনি। করোনা মোকাবেলার জন্য সকল ভেদাবেদ ভূলেগিয়ে নিবন্দিত সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে নিয়ে সরকারকে জাতীয় ঐক্য গঠনের আহব্বান জানান মনিষা চক্রবর্তি ।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply