স্টাফ রিপোর্টারঃ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরের পর থেকেই এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। যা দিনভর বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাত ১০:৩০ মিনিটের দিকে এই সংবাদ লেখার সময় নগরীতে বৃষ্টি ঝড়ছিলো। সাথে ছিলো দমকা হাওয়া। ঝড়ো বৃষ্টি শুরুর আগে পরিবেশ গুমোট ভাব ধারণ করেছিলো। এই বৃষ্টি আম্পানের প্রভাবে হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে উপকূলীয় ১৪ জেলাকে ৭ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে মঙ্গলবার সকালে কয়েক ঘণ্টা রোদের দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ম্লান হয়ে যায়। সঙ্গে দমকা হাওয়া শুরু হয়।
এদিকে, বিভাগের ছয় উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবায় মেডিক্যাল টিম গঠনসহ বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি।
উপকূলের গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠি থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান- মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। জেলার সুগন্ধা, বিশখালী আর হলতা নদীর পানিও থমথমে অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় জেলার বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী উপজেলা কাঁঠালিয়ার জেলেদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সেই সঙ্গে সুগন্ধা নদীর কলেজ খেয়াঘাট ও পৌরসভা খেয়াঘাটে সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার।
বিকেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীর সভাপতিত্বে সভায় জেলার সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানান, জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার, বিদ্যালয় এবং পাকা ভবনসহ ঝালকাঠি জেলায় মোট ২৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনা খাবার ও চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জানমালের যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী: পটুয়াখালী থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার (১৮ মে) সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। দুপুরের পর থেকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়।
এদিকে, আবহাওয়া অফিস পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পটুয়াখালী জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে। সকাল থেকে নদীর পানি সামান্য বাড়ছে। বর্তমানে নদীর পানি নীরব-নিস্তব্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সংবাদকর্মীদের জানান, প্রত্যেককে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্য আদান-প্রদান করতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। যার টেলিফোন নম্বর ০৪৪১-৬৫০১০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১০২৯৮৭১৮। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ২০ লাখ নগদ টাকা, নয় লাখ টাকার শিশুখাদ্য, ৪৫০ টন চাল ও পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুত রয়েছে।
ভোলা: ভোলা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, ভোলার ২১ চরের ৩ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ জেলা পুলিশ ও কোষ্টগ্রার্ডের সহায়তায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার কাজ শুরু হয়।
ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, সবাইকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদে আসতে সিপিপি ১০ হাজার ২০০ সেচ্চসেবী উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের জন্য ৩ বেলা খাবারের ব্যাবস্থ করা হয়েছে।
বরগুনা: বরগুনা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় আম্ফানের প্রভাবে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে আমতলীতে। এতে মানুষের মধ্যে আরো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়াও আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন জানান, নদীতীরবর্তী এবং ঝুঁকিপূর্ন সকল স্থানের মানুষকে সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া মানুষজনদের মাঝে রাতের খাবার হিসেবে খিচুরি তিরন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরন ও পর্য়াপ্ত সাবান পানি রাখা হয়েছে। আম্ফান মোকাবেলায় সিপিবি, রেডক্রিসেন্টের ম্বেচ্ছা সেবকদের রাখা হয়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply