এইচ আর হীরা॥ বিশ্বের উন্নত দেশের জনগণ বিপদে-আপদে পুলিশকে পরম বন্ধু হিসাবে দেখে থাকে। বাংলাদেশের পুলিশও জনগণের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ সেবার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। যদিও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের পুলিশ কতটা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মের কারণে পুলিশের ভাবমুর্তি মাঝে মধ্যে ক্ষুন্নও হয়।
তবে পুলিশের এমন কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যারা নিজের সুবিধার কথা চিন্তা না করে অসহায় জনগণের পাশে গিয়ে দাড়ান। দেশ এবং জনগণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। জীবনের ঝুকি নিয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করেন। এ ধরণের পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডের কারণে জনগণ পুলিশকে পরমবন্ধু হিসাবে মূল্যায়ন করে থাকে। এমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম।
যিনি নিজেকে কখনও ওসি হিসাবে নয়, জনগণের একজন সেবক হিসাবে অতিসাধারণ বেশে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।তিনি ২০১৮ সালের ৩০জুলাই অফিসার ইনচার্জ হিসাবে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় যোগদান করেছেন। যোগদানের পর থেকেই জনস্বার্থ ও মানবিক সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন যা স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বরিশাল সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় অবসরপ্রাপ্ত হতভাগ্য অসুস্থ এক বাবা তার ছেলেকে নিয়ে সোনালী ব্যাংকে এসেছিলেন পেনশনের টাকা উত্তলন করতে।
করোনা উপসর্গ নিয়ে হঠাৎ ব্যাংকে অসুস্থ হিয়ে পড়লে ছেলে তার বাবার কাছথেকে পেনশনের টাকা নিয়ে অসুস্থ বাবাকে ওখানে রেখেই চলে যায় তাঁর সন্তান।
পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে বের হয়ে মুঠোফোনে সেই ছেলে কোতোয়ালী থানায় ফোন করে বলেন, “আপনারা যা করার করেন “সহ অশ্রবণীয় ভাষায় তথ্যদাতা সহ উদ্ধার তৎপরতায় কর্তব্যরত পুলিশকে এমন বিরক্তি প্রকাশে ফোনেই কেটে পরেন জন্মদাতা অসহায় বাবার আদরের সন্তান।
এমন খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম পিপিএম, হতভাগা সেই পিতাকে এম্বুলেন্স যোগে উদ্ধার করে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ওসি নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন,” করোনা ঝুঁকিতে কেউ এগিয়ে না এলেও মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের আদেশ বাস্তবায়নে অসহায় ভুক্তভোগীদের সাথে এমনকি বেওয়ারিশ করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যাক্তির শেষ কাজ করা সহ এই মহামারির শুরু থেকেই আমরা রয়েছি এবং ইনশাআল্লাহ্ থাকবো শেষ পর্যন্ত। ওসি নুরুল ইসলামের ন্যায় দেশের প্রতিটি পুলিশ অফিসার সেবার এমন প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে জনগণের পরমবন্ধু হিসাবে পরিচিতি লাভ করুক এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
ওসি নুরুল ইসলাম আরো বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম থেকেই বেশ সতর্ক অবস্থানে থেকে তৎপর ছিলো কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৯ জন পুলিশ সদস্য ও ৪ জন পুলিশ সদস্য’র পরিবার পর্যায়ক্রমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।
১ মে থেকে ১৮ জুনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ওই ১৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের সকলেই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা গ্রহন করছেন। এদের মধ্যে ৭ জন পুলিশ সদস্য বরিশাল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে করোনা মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে পুনরায় মানব সেবায় নিজেকে নিয়জিত করেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply