মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৫১

শিরোনাম :
রোকেয়ার মুড়ি ভেজে সফলতায়

রোকেয়ার মুড়ি ভেজে সফলতায়

dynamic-sidebar

রোকেয়া জীবন সংগ্রামে বেঁেচ থাকা এক সফল নারী। আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের উদয় সিবিওর একজন নারী সদস্য এই রোকেয়া। এই গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত নয়। অল্প বয়সে রোকেয়ার বিয়ে হয়। স্বামী ইসহাক মল্লিক অত্যন্ত দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতেন। বসত ভিটা ছাড়া তার আর সম্বল নেই। রোকেয়া অভাবের সংসারে দিন কাটাতেন। রোকেয়া জানতেন না তার ভবিষ্যত কি হবে। এরপর রোকেয়ার একে একে তিন পুত্র সন্তান জন্ম হয়। ০৩ ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে রোকেয়ার জীবন হতাশায় কাটতে শুরু করলো। ওদিকে স্বামীর দৈনিক আয়ের টাকা দিয়ে স্বচ্ছলভাবে সংসার চলছিল না। রোকেয়া চিন্তা করলো স্বামীর আয়ের পাশাপাশি যদি কিছু একটা করা যায়। এলাকায় ২০১১ সালে রি-কল প্রকল্প কাজ শুরু করলে সে সিবিওর সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। কিছুদিন নিজের ইচ্ছায় সিবিওর মিটিং এ গিয়ে উন্নয়নমূলক কথা শুনে নিজের মনকে তৈরি করে আতœনির্ভরশীলতার পথে। একসময় রোকেয়া উদয় সিবিওর সদস্য পদে অর্ন্তভুক্ত হন। এর পর নারী আড্ডাদলে একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে সফলতার সাথে তুলে ধরেন। সামান্য কিছু অর্থ জোগার করে সিদ্ধান্ত নেন মুড়ি ভাজবেন এবং বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করবেন। রি-কল প্রকল্প থেকে বিভিন্ন সভা ও প্রশিক্ষনেও অংশ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। স্বল্প পুজিঁর সাথে রি-কল প্রকল্পের থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা পান। যুক্ত হয় আরও কিছু পুজিঁ। নারী নের্তৃত্ব ও নারীর অর্থিৈতক ক্ষমতা সম্পর্কেও তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। প্রথমে নিজের এলাকায় মুড়ি উৎপাদন করে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে শুরু করেন। এতে প্রথমত মাসে ৩০/৩৫ কেজি চালের মুড়ি মুড়ি ভাজতেন। ধীরে ধীরে তার ব্যবসা বড় হতে শুরু করে।

মুড়ি ভেজে ব্যবসা বৃদ্ধি পেলে তার জীবনে অভাবের সংসারে অর্থনৈতিক সফলতা ফিরে আসে। এলাকার একটি আবাসিক মাদ্রসায় রোকেয়া চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে নিযমিত মুড়ি সরবরাহ করে। তাছাড়া স্থানীয় হাট ও বাজারেও মুড়ি বাজারজাত করছেন। নিজের পাশাপাশি একাজের জন্য স্বামীকেও কাছে পাওয়ায় রোকেয়ার কিছু কস্ট লাগব হয়। এতে সে একজন নারী হিসেবে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও পরিবারে মর্যাদা অর্জন করেছ্।বর্তমানে ২ মন চালের মুড়ি ভাজেন এবং তা বাজারজাত করেন। পরিবারে ছেলেদের পড়াশুনার খরচ বহন ও অন্যান্য খরচ করার পর বছরে তার ৩০/৪০ হাজার টাকা সঞ্চয় অবশিস্ট থাকে। তার বড় ছেলে এসএসসি পরীক্ষা পাশ করেছে গত বছর, ২য় ছেলে জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে গত বছর। রোকেয়ার স্বপ্ন তার ছেলেরা বড় হয়ে ভালো চাকুরী করবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। রোকেয়ার দুখের সংসারে অর্থনৈতিক সফলতা ফিরে আসায় হৃদয়ে আনন্দ ধরে না।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net