নিজস্ব প্রতিবেদক॥বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ২৮ ঘন্টার ব্যবধানে এক নবজাতক শিশুসহ করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।শনিবার সকাল ৮টার পর থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
এদের মধ্যে চারজন করোনা পজেটিভ, একজন নেগেটিভ এবং বাকিদের রিপোর্ট অপেক্ষমান রয়েছে।এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড এবং আইসোলেশন ইউনিটে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩১ জনে। যার মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫১।তথ্য নিশ্চিত করে শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এসএম মনিরুজ্জামান জানান, সবশেষ সকাল সাড়ে ১০টায় কদম আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে।তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা মৃত করম আলীর ছেলে। করোনার উপসর্গ থাকায় ১২ জুলাই রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে তাকে শেবাচিমের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টায় মৃত্যু হয় তার।এর ২০ মিনিট আগে মৃত্যু হয়েছে ২৪ দিন বয়সি জান্নাতুল মাইশা নামের এক নবজাতকের। সে করোনা আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ৬ জুলাই রাত ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে মৃত্যু হয় তার।মৃত নবজাতক বরিশাল নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ গোরস্থান রোডের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নার্সদের অসাবধানতার কারণে তার সদ্যজাত কণ্যা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।তিনি বলেন, ‘অপর একটি শিশু করোনা আক্রান্ত ছিলো। তাকে যেই অক্সিজেন দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সেই একই অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে মাইশাকেও অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হলে শিশুটি করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এর আগে সকাল ৭টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে সুফিয়া বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার। তিনি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা নূরুল ইসলামের স্ত্রী। ১২ জুলাই রাত পৌনে ১টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মৃত্যু হয় তার।এছাড়া রাত ১২টা ৪৩ মিনিটে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আব্দুল গনি হাওলাদার (৭০) নামের বৃদ্ধের। তিনি শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল এর বাবা। গত ৭ জুলাই সকাল ৯টা ১০ মিনিটে উপসর্গ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুলাই রাতে মৃত্যু হয় তার। তবে গত ৬ জুলাই’র পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী তার করোনা নেগেটিভ ছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এছাড়া শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় করোনা আক্রান্ত লুৎফর রহমান (৬৫) নামের বৃদ্ধের। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মৃত আইজউদ্দিনের ছেলে। গত ২৮ জুন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। ২৯ জুন তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। শ্বাসকষ্ট বেশি থাকায় তাকে করোনা ইউনিটে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।শনিবার বিকালে মৃত্যু হয় সন্তষ কুমার রায় (৬৮) নামের বৃদ্ধের। তিনি জেলার উজিরপুর উপজেলার পূর্ব সাতলা এলাকার রশিক রায়’র ছেলে।
গত ১১ জুলাই বিকাল ৩টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে। আইসোলেশনে থাকাবস্থায় শনিবার বিকাল ৫টায় তার মৃত্যু হয়। তার রিপোর্ট অপেক্ষমান রয়েছে।এর আগে বিকাল ৪টায় মৃত্যু হয় করোনা আক্রান্ত সিদ্দিক আলী নামের ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধের। তিনি বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সাগরদী এলাকার বাসিন্দা মৃত আনিচ উদ্দিনের ছেলে। ৪ জুলাই বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই বিকালে মৃত্যু হয় তার। এর আগে গত ৯ জুলাই নমুনা পরীক্ষা করা হলে তার করোনা পজেটিভ আসে।এছাড়া ১১ জুলাই সকাল ৮টা ২০ মিনিটে মৃত্যু হয় সূয্য বানু নামের ৮৬ বছর বয়সি বৃদ্ধার। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ৭ জুলাই রাত ১০টা ৪০ মিনিটে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। এর আগেই গত ৫ জুন তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হলে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply