খবর বরিশাল ডেস্কঃ বরিশাল সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বরিশালের আওয়ামী লীগের রাজনীতি। শুরু হয় চাচা-ভাতিজা গ্রুপের দ্বন্দ্ব। গত ১৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয় বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে।
এ নিয়ে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ ভিন্ন অবস্থান নেন। যা নিয়ে চলে আলোচনা-সমালোচনা। মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে না নেমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন। আর মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ এখনও ঢাকায় অবস্থান করায় তিনিও চাচার পক্ষে ভোটের মাঠে নামেননি। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সমর্থকদের ওপর পিস্তল ঠেকিয়ে অতর্কিত হামলার অভিযোগ ওঠে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহম্মেদ মান্না ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ওই দিন রাত ৯টার দিকে পিস্তল ঠেকিয়ে অতর্কিত হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়। রাতেই মেট্রোপলিটনের কাউনিয়া থানা পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না ও তার ১০ সহযোগীসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। ওই ঘটনার দিন রাতে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বরিশালে আসার পর এই প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত তার বড় ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর স্ত্রী প্রয়াত সাহান আরা আবদুল্লাহর কবর জিয়ারত করেছেন। আর দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ভাবির কবর জিয়ারত করার ঘটনাকে বরিশালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অবসানের।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তার বড় ভাবি সাহান আরা আবদুল্লাহর কবর জিয়ারত করেন। তিনি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন নগরীর মুসলিম গোরস্তানে। এরপর প্রয়াত ভাবি সাহান আরা আবদুল্লাহর ও মান্নান দরবেশের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস ও অন্য নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষের নেতারা কেউ আবুল খায়ের আবদুল্লাহর পক্ষে নির্বাচনি মাঠে নামেনি। এই দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য গত বুধবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়। এর প্রধান করা হয়েছে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকে। এরপর শুক্রবার দুপুরে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ তার বড় ভাইয়ের প্রয়াত স্ত্রীর কবর জিয়ারত করার ঘটনাকে দ্বন্দ্ব নিরসনে অগ্রগতি বলে মনে করছেন বরিশালের সচেতন মহল।
বিশেষ করে তার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস থাকায় এই ধারণা আরও বদ্ধমূল হচ্ছে। তবে এতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীরকে দেখা যায়নি।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, আবুল খায়ের আবদুল্লাহ দলীয় প্রার্থী। তাকে বিজয়ী করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামব। শিগগিরই ঢাকা থেকে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বরিশালে ফিরে যৌথসভা করে আমাদের নির্দেশনা দেবেন। সে অনুযায়ী আমরা মাঠে নামব।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply