বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৫৫

বরিশালে শ্রমিক–শিক্ষার্থী সংঘর্ষের জেরে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

বরিশালে শ্রমিক–শিক্ষার্থী সংঘর্ষের জেরে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : 
বরিশালে শ্রমিক–শিক্ষার্থী সংঘর্ষ ও ব্যাপক ভাঙচুরের পর রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল থেকে নগর ও দক্ষিণাঞ্চলমুখী সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারেফ হোসেন অভিযোগ করেন, বিনা কারণেই শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে টার্মিনালের শ’খানেক বাস ভাঙচুর করেছে। কাউন্টারগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, “মালিকপক্ষ লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল চালু করা সম্ভব নয়।”

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, ব্যাপক ভাঙচুরে টার্মিনালের অধিকাংশ বাস চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে আছেন। বাস মালিক ও শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে বাস বন্ধ রাখছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

জানা যায়, শনিবার বিকেলে অভ্যন্তরীণ রুটে হাফ ভাড়া নিয়ে বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাস কর্মচারীর বাকবিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে টার্মিনালে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এর পরপরই সন্ধ্যায় সরকারিবিএম কলেজের কয়েক শত শিক্ষার্থী নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হামলা চালায়।

সেসময় তারা টার্মিনাল ভবনসহ শ’খানেক বাস ভাঙচুর করে এবং একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
এদিকে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলেন।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, হামলার সময় ৩০ থেকে ৪০টি কাউন্টার ভেঙে বিপুল টাকা লুট করা হয়েছে, এবং শিক্ষার্থীদের হামলায় ২০–২৫ জন শ্রমিক আহত হন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলছে, হাফ ভাড়া চাইতে গেলে তাদের সহপাঠীকে লাঞ্ছিত করে শ্রমিকরা। প্রতিবাদ জানাতে গেলে শ্রমিকদের হামলায় বিএম কলেজের ২০–২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের দাবি, শ্রমিকরাই বাস ভাঙচুর করে দায় শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।

শনিবার রাত থেকেই দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রোববার সকালে টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ক্ষতিগ্রস্ত বাস, প্রায় সব কটিই ভাঙচুর করা হয়।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net