খবর বরিশাল ডেস্ক
কোনো নারী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি।
আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনর নেয়া সাক্ষাৎকারে শরিয়া আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বেশ জটিল একটি প্রশ্ন করেছেন। আমরা দেশের সাংবিধানিক আইন মেনেই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা জনগণের চাওয়া বুঝার চেষ্টা করছি। আমরা মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করবো না।”
শ্রীনিবাসন তার প্রশ্নে বলেন, “আপনি জনগণের ইচ্ছার কথা বললেন। তবে গত বছরের জুলাই মাসে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এক জনসমাবেশে বলেছিলেন, আগামী সংসদ কেবলমাত্র ইসলামি আইনের ভিত্তিতেই চলবে। এখানে মানবরচিত কোনো মতবাদের স্থান নেই। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়েতের আমির বলেন, “আপনার অবশ্যই দলের প্রধানের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত। আমরা ইসলামের বিষয়গুলোই তুলে ধরছি। যেমন— দুর্নীতি দমন, সকল স্থানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জনগণের গণতান্ত্রিক মানবাধিকার। যদি এই আইন দেশের জন্য ভালো হয় তাহলে সেটা সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে।”
নারীর কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একজন সন্তান লালনপালন করেন, একইসঙ্গে তিনি তার কর্মসংস্থানে একজন পুরুষের মতো একই সময় কাজ করেন। আমি মনে করি এটা ন্যায়বিচার নয়। এই সময়টাতে একজন নারীকে সম্মান দেখানো উচিত। এক্ষেত্রে নারীদের এই সুযোগের অভাবে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা বলেছি, যদি কেউ মনে করে তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তবে কোনো নারী যদি পুরো আট ঘণ্টাই কাজ করতে চায় তাহলে সে করতে পারবে।”
শ্রীনিবাসন জৈন জানতে চান, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থীর সংখ্যা কতো? জবাবে ডা. শফিক বলেন, “না একজনও না। অন্য দলও যে খুব বেশি দিয়েছে সেটা আপনি দেখাতে পারবেন না। কারণ এটা বাংলাদেশের কালচার। আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এসময় পাল্টা প্রশ্ন করেন আল জাজিরার সাংবাদিক। বলেন, “তারা অল্প কিছু হলেও দিয়েছে। আপনাদের মতো শূন্য না। আপনারা একজনকেও দিলেন না কেন?
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি এরই মধ্যে উত্তর দিয়েছি। আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা এক দিনে হয়ে যাবে না। আমরা এ বিষয়ে নারীকে অসম্মান করি না।”
আল জাজিরার সাংবাদিকের প্রশ্ন, যদি কখনো কোনো নারী চান যে তিনি জামায়াতের প্রধান হবেন, আপনার পদে বসবেন, সেটা কি সম্ভব? ডা. শফিকুর রহমান বলেন, না। এটা সম্ভব না। কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে আলাদাভাবে বানিয়েছেন। আমরা পুরুষরা কখনোই বাচ্চা পালতে পারবো না। আমরা বাচ্চাদেরকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবো না। এটা আল্লাহর দান। যেটা আল্লাহ বানিয়েছেন সেটা আমরা পাল্টাতে পারব না।”
নারী যদি পরিবার চালাতে পারে, যদি বাচ্চা পালতে পারে, তাহলে জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না কেন— এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “এমন কিছু জিনিস আছে যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আপনি জানেন সেটা।”
এরপর শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, না, আমি আসলে জানি না। জামায়াতের আমির বলেন, “কেন জানেন না সেটা আপনি? মা বাচ্চা পয়দা করার পর যে দায়িত্ব পালন করে, সেটা কি আপনি পারবেন? কখনোই না। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।”
আল জাজিরার পাল্টা প্রশ্ন, কিন্তু গত তিন দশক তো দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারা কি দেশ চালাননি? ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা তাদেরকে অসম্মান করছি না। আমাদের তাতে অসুবিধা নাই।”
মেয়েরা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে না? তারা কতো প্রতিষ্ঠানের প্রধান না? তাহলে দেশ চালাতে পারবে না কেন— এসব প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, “পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ নারীদেরকে এ পদে যোগ্য মনে করে না। শারীরিকভাবেই এটা সম্ভব না। এটাই সত্য।”
আল জাজিরার প্রশ্ন, আপনি বিএনপির (জোটের) অংশ ছিলেন আগে, যেখানে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনি কি মনে করেন না যে, উনি ভালো কাজ করেছেন?
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “হ্যাঁ। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত না। ওটা ওদের পার্টির সিদ্ধান্ত।”
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply