
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৪ জুন ভোর ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে।
পরিবহন নেতাদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও তাদের দাবিগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এ কারণে তারা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ধর্মঘট কার্যকর হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ৩ দফা দাবিগুলো হল-
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে সরকারি অনুমোদনের তুলনায় বেশি সংখ্যক বিআরটিসি বাস চলাচল করছে। পাশাপাশি মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলারও নিয়মিত চলাচল করছে।
তিনি জানান, এসব সমস্যা সমাধানে ২০২৪ সাল থেকে সাতটি বাস মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। তবে আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তার ভাষ্য, গত ২০ মে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর জরুরি সভায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়। তারা আশা করেছিলেন ১১ জুনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় ১৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, মালিক সমিতির দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। তিনি জানান, ১৪ জুন থেকে যাতে পরিবহন ধর্মঘট শুরু না হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply