খবর বরিশাল ডেস্ক ::
বরিশালে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের আগস্ট মাসের বেতন বকেয়া রেখেই কারখানাটি বন্ধের নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্র দাবি করায় কৌশলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব বাধিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। তাই এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদসহ কাজে যোগদানের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শ্রমিকরা নগরীর নথুল্লাবাদ সংলগ্ন ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আগে রোববার কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকরা জানান, সম্প্রতি কারখানার মো. মজনু নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে পলাশ নামের শ্রমিকের দ্বন্দ্ব হয়। ওই কর্মকর্তা গায়েপড়ে শ্রমিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং হাতাহাতিতে জড়ায়। এ ঘটনায় শ্রমিক পলাশকে মালিকপক্ষ শোকজ করলে সে তার যথাযথ জবাব দেন। এরপরও ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তারা কর্মবিরতি পালন করে। এরপর হঠাৎ করেই শ্রমিকদের ওপরে দায় চাপিয়ে রোববার দুপুরের দিকে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেয় মালিকপক্ষ। এর প্রতিবাদে তারা সোমবার দুপুর থেকে কারখানার সামনে অবস্থান এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল। দলটির বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী জানান, একজন কর্মকর্তা গায়েপড়ে শ্রমিকদের সাথে বিরোধ করে। এর জের ধরে কর্মকর্তারা কয়েকদিন ধরে কর্মবিরতি পালন করে আসছে। কিন্তু শতাধিক শ্রমিক নিয়মিত তাদের কার্যক্রম এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছিল।
ডা. মনীষা অভিযোগ করেন, মূলত কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা মালিকপক্ষের একটি কৌশল। কেননা ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিয়োগপত্র এমনকি পরিচয়পত্র পর্যন্ত দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করে। এর প্রেক্ষিতে চলতি মাসে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা। সেটা যাতে না দেওয়া লাগে সে জন্যই মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সাথে কর্মকর্তাদের বিরোধ বাধিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করছি অধিকার আদায়ের জন্য যেসব শ্রমিক আন্দোলন করেছে তাদের ছাঁটাই করতেই মালিকপক্ষ এমন কৌশল নিয়েছে। আমরা দ্রুত কারখানা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ, নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্র প্রদানের দাবি করছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। পরে ফোন করবেন বলে জানালেও আর সাড়া মেলেনি তার।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply