খবর বরিশাল ডেস্ক :
সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া বরিশাল মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম মনিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি যুবদল নেতার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তার একমাত্র ছেলে রাইহানকে সিটি করপোরেশনে চাকরি দিয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে নিজ কার্যালয়ে মনিরের স্ত্রী, দুই কন্যার সামনে ছেলে রাইহানের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসি প্রশাসক।
এসময় বিসিসি প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘জিএম মনির বিএনপির একজন নিবেদিত প্রাণ ছিল। সে দলের জন্য অনেক ত্যাগ শিকার করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলের যতো বড় কর্মসূচিই থাকুক, আমরাও অনেক সময় আসতে পারেনি। কিন্তু মনির সব সময় রাস্তায় ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দল আজকে ক্ষমতায় আসছে কিন্তু মনির অর্থনৈতিকভাবে অনেক অস্বচ্ছল ছিল। মারা যাওয়ার তিনদিন আগে সে সিটি করপোরেশনে আমার কাছে এসে তার ছেলের জন্য একটা চাকরি চেয়েছিল। ওর আর্থিক অবস্থায় এতটাই অসচ্ছল ছিল যে, এই মুহূর্তে ওর ছেলে-মেয়ের ভাত খাওয়ার মতো সুযোগ নেই- যদি আমরা পাশে এসে না দাঁড়াই।’
বিসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আমার নেতা তারেক রহমান আমাকে একটা চেয়ার দিয়েছে। এ চেয়ারটাতে মনিরদের দাবি আছে। ওদের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল হিসেবে আমি এ চেয়ারটাতে বসতে পরেছি। এ চেয়ারটাতে বসে আমি অন্তত মনিরের বাচ্চারা যাতে ভাত খেতে পারে এরকম একটা চিন্তা থেকে মনিরের ছেলেকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা যতটুকু সেই অনুযায়ী তাকে লাইসেন্স শাখায় একটা চাকরি দিলাম। এ জায়গায় থেকে অন্তত ওর মা-বোনদের নিয়ে যেন খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।’
এদিকে বাবার মৃত্যু সাতদিন পরে চাকরি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জিএম মনিরের ২২ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে রাইহান।
তিনি বলেন, এ চাকরিটা পেয়ে আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকার হয়েছে। এ দিয়ে অন্তত আমি আমার মা-বোনদের নিয়ে দু’বেলা খেয়ে পড়ে থাকতে পারব।
মনিরের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী সব সময় রাজনীতি নিয়েই রাজপথে থাকতেন। সংসারের প্রতি তার তেমন গুরুত্ব ছিল না। তার মৃত্যুর আগেও আমার ঘরে রান্না করার চাল ছিল না। যেদিন মৃত্যুবরণ করেছেন সেদিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিল, সমাবেশ এবং মিছিল শেষ করে খাবার নিয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু তার আর ফেরা হয়নি। তার মৃত্যুতে আমরা একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছি। এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন আমাদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আমার ছেলেকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এজন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর বরিশালে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে বরিশালে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম মনির। এসময় নগরীর কাটপট্টি এলাকায় মিছিলের মধ্যে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে এবং দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply