বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:০৯

শিরোনাম :
বরিশালে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালের জয়শ্রী বাজারে ভ’য়া’বহ অ’গ্নি’কা’ণ্ড! উজিরপুরে গাছের পাতা কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বৃদ্ধের মৃত্যু অ্যাম্বুলেন্স-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, মহাসড়কে প্রাণ গেলো প্রতিবন্ধী নারীর বরিশালে ৫ দিনের ব্যবধানে স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পরিবর্তন শিল্পের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত বরিশাল বরিশালে গাঁজাসহ দুই নারী মাদকব্যবসায়ী আটক বিএনপি নেতা ও পৌর কর্মকর্তার জুয়ার ভিডিও ভাইরাল ভাইভা ইস্যু আপনাদের কোথায় পাঠাবে, নিজেরাও টের পাবেন না: নাহিদ ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে হাসিনার মতো পরিণতি হবে
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

dynamic-sidebar

কুয়াকাটায় লগ্নিকারকসহ পর্যটক এবং দক্ষ্ণিাঞ্চলবাসী ফের শঙ্কায় পড়েছেন। সাগরের ভাঙ্গন রোধে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবছর অনিশ্চিত হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রেরিত সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় থেকে বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানোয় এমন অনিশ্চয়তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামি বছরেও এটি বাস্তবায়ন হবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল বিভাগ। ইতোমধ্যে এ বছরের বর্ষা মৌসুমের প্রথম অমাবস্যার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার তিনদিনে ছয় দফা হানা দেয় সৈকতের বেলাভূমে। প্রায় ১০ ফুট প্রস্থ সৈকত সাগর গিলে খেয়েছে। এখন কুয়াকাটা পৌরএলাকাসহ পর্যটন এলাকার মানুষ ও তাদের সম্পদসহ সকল ধরনের স্থাপনা রক্ষায় বেড়িবাঁধটিও চরম ঝুকিতে রয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে বাঁধের রিভার সাইটের স্লোপসহ মূল বাঁধ সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করে ২০১৭ সালের শেষের দিকে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। সেখান থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। যা অনুমোদন শেষে এবছর এ প্রকল্পের কাজ শুরুর সম্ভাবনা ছিল। সম্পুর্ণ সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্পের বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়-বরাদ্দ নির্ধারন করা হয়েছিল ২১২ কোটি টাকা। কুয়াকাটা সৈকতের শুন্য পয়েন্ট থেকে দুই দিকে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত এলাকা নিয়ে এ প্রকল্পের সম্ভাব্য এলাকা ছিল। পশ্চিম দিকে দেড় কিমি এবং সাড়ে তিন কিমি পুবে সৈকত রক্ষায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা ছিল। গ্রীণ সী ওয়াল নির্মাণের মধ্য দিয়ে শোরলাইন বরাবর স্থীর থাকা। সৈকতের দেশভাগে গ্রীণ সী ওয়ালের ওপর দিয়ে পর্যটকরা হাঁটাচলা করা। সী ওয়ালের ওপর ঘাস লাগানো। পরিবেশ বান্ধব। দৃষ্টিনন্দন। পর্যটক-দর্শনার্থীরা পেত সী ওয়ালে বসে সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ। সী ওয়ালটি অবস্থান ভেদে ২১ মিটার প্রস্থ এবং দুই-আড়াই মিটার উচু করার পরিকল্পনা ছিল। গ্রীণ সী ওয়ালের সামনের দিকে উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডব ঠেকাতে নির্দিষ্ট এলাইনমেন্ট বরাবর সাগরের অন্তত তিন মিটার গভীর তলদেশে জিও টিউব বসানো। যার ফলে পলি জমে বীচের পরিধি আরও বাড়ত। প্রশস্ত হতো। জিওটিউবটি এমনভাবে বসানোর পরিকল্পনা ছিল যে জোয়ারের সময় এটি পানির নিচে থাকতো। পর্যটকের দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হতো না। জিও টিউবের ওপর দিয়ে সহজেই নৌকাসহ জলযান সাগর অভ্যন্তর থেকে বেলাভূমে ভিড়তে পারতো। সৈকতের ভাঙ্গন রোধে এবং পূর্বের প্রশস্ততা ফিরে আনার জন্য এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল বলে পাউবোসুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুই থেকে আড়াই মিটার উচ্চতার টপে প্রস্থ তিন মিটার। নিচে প্রস্থ প্রায় ১৪ মিটার থাকার প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু এ প্রকল্পটি অনুমোদন এখনও মেলেনি। কিংবা সৈকত রক্ষায় বিকল্প কোন উদ্যোগ এ বছর এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। বরং বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উত্তাল ঢেউ এক দফা হানা দিয়ে সৈকতের পরিধি অনেকটা খাটো করে দিয়েছে। ফলে কুয়াকাটার সৌন্দর্যমন্ডিত সৈকতসহ গোটা এলাকা এখন সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে বিলীনের শঙ্কায় পড়েছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন লগ্নিকারকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ীভাবে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার জন্য এ প্রকল্প প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছিল। যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ফের বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। যার জন্য এবছর সাগরের ভাঙন রোধে সৈকত রক্ষা প্রকল্পের কাজ অনিশ্চিত হয়ে গেল। তবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রটেকশনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেন এই কর্মকর্তা। কিন্তু কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
ইতোমধ্যে গত দশ বছরে কুয়াকাটা সৈকতের দীর্ঘ এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। সৈকতের বেলাভূমে এখন আর জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন থাকে না। মনোলোভা এ সৈকতের হাজার হাজার নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা সাগরের উত্তাল ঢেউ গিলে খেয়েছে। সবশেষ ঈদের আগে-পরে তিনদিনের অস্বাভাবিক জোয়ার লন্ডভন্ড করে দেয় সৈকতের প্রায় ১০ ফুট প্রস্থ দীর্ঘ এলাকা। ঝুঁকিতে পড়েছে কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা পার্কসহ ফার্মস এন্ড ফার্মসের অবশিষ্টাংশ। এখন ঝুঁকির শঙ্কায় রয়েছে কুয়াকাটা পৌর এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ। ২০০৪ সাল থেকে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, এপ্রকল্পটি কুয়াকাটার উন্নয়নে বহুল কাঙ্খিত ছিল। এখন অনিশ্চিয়তার কারণে আমরা শঙ্কিত রয়েছি। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মোঃ মাছুমুর রহমান জানান, কুয়াকাটা সৈকতে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিজম পার্ক এলাকাসহ পর্যায়ক্রমে সৈকতের বেলাভূমি ঢেউয়ের তোড়ে বিলীন রোধে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকা জরুরি প্রটেকশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শীঘ্রই এর কাজ শুরু হবে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কুয়াকাটার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল পদক্ষেপ নিয়েছেন। যার বাস্তবায়ন চলছে। এনিয়ে কারও শঙ্কার কিছুই নেই।’ তবে এখানকার মানুষ কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net