শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৫৭

শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় প্রকৌশলীর যোগসাজশে প্লান বর্হিভুত বহুতল ভবন নির্মাণ

বানারীপাড়ায় প্রকৌশলীর যোগসাজশে প্লান বর্হিভুত বহুতল ভবন নির্মাণ

dynamic-sidebar

বিল্ডিং কোডতো দূরের কথা, কোন ধরণের আইন না মেনেই বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কুন্দিহার নামক এলাকায় নির্মিত হয়েছে বহুতল একটি ভবন। এই ভবনকে ঘিরে প্রতিনিয়ত উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় সময় পার হচ্ছে আশেপাশের বাসিন্দাদের। বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকির ভাবনায় সেই উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ বহুতল এই ভবনটি নির্মাণের কারণে আশোপাশের বাসাবাড়িতে প্রবেশের পথ রুদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি প্লানবর্হিভুত ভবনটির কারণে সেখানে অগ্নিনির্বাপক যানবাহনও প্রবেশ করতে পারবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পার্শ্ববর্তী একাধিক বাসিন্দা সংশ্লিষ্ট পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়েও সুফল পায়নি।

যদিও প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পেয়ে সেখানকার সহকারি প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম খান আশ্বাস জানিয়েছিলেন বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের অভিযান করে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিবেন। কিন্তু সেই আশ্বসের পরে ভবটির নির্মাণ কাজ বন্ধে কোন ধরণের পদক্ষেপ নেননি। ফলে জোরালো গতিতে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে অনেক অংশে শেষ করে ফেলেন প্রবাসী হাবিবুর রহমান খান।

এমতাবস্থায় অভিযোগ উঠেছে- প্রবাসী হাবিবের কাছ থেকে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিরব ছিলেন প্রকৌশলী আবুল কাশেম খান। এমনকি অভিযোগকারিদেরও দেখছি বা করছি বলে কৌশলে নিবৃত রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই পুরো ঘটনায় ক্ষুব্ধ আশেপাশের অন্তত ১০টি ভবন মালিক প্রকৌশলীসহ প্রবাসী হাবিবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভবন নির্মাণের পুরো ঘটনা প্রাথমিকভাবে বিক্ষুব্ধরা বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীলকে অবহিত করতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাম্প্রতিকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- প্রবাসী হাবিবের ভবনটি যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছে তাতে প্রতিবেশী মালিকদের বেশ কয়েকটি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ হাবিবের ভবনটি একেতো বহুতল, তার ওপরে আশপাশের ভবনের মাঝে কোন দূরত্ব রাখা হয়নি। অথচ পৌরসভা বলছে আইন অনুযায়ী দুটি ভবনের মাঝে ৩ ফুট জায়গা ফাঁকা থাকতে হবে। কিন্তু সেই মোটেও মানেননি প্রবাসী হাবিব। তাছাড়া প্লান বর্হিভুতভাবে ভবনটি গড়ে ওঠায় পেছনের বাসিন্দাদেরও যাতায়াতের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা তুষার আহম্মেদ মিজান ভবনটি নির্মাণের শুরুতে পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন। মুলত সেই অভিযোগটি মেয়রের পক্ষে গ্রহণ করেছিলেন প্রকৌশলী আবুল কাশেম খান। তখন অবশ্য এই প্রকৌশলী অভিযোগকারীকে আশ্বস্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন।

তুষার আহম্মেদ মিজানের সেই অভিযোগ রহস্যজনক কারণে পৌরসভাতেই ফাইলবন্দি করে রাখ হয়। এমনকি পৌরসভার কোন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে যাননি। এর পরে একাধিকবার মৌখিকভাবে প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। তুষার আহম্মেদের অভিযোগ প্রকৌশলী আবুল কাশেম ভবন মালিক হাবিবের কছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে নিরব ছিলেন।

যেই বিষয়টি তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করছেন তিনি। যদিও এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলছেন- প্লান বর্হিভুত কোন ভবন বানারীপাড়া পৌরসভায় গড়ে ওঠার সুযোগ নেই। তার পরেও যদি কেউ নির্মাণ করে থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে পৌরসভার মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল বলেন, বিষয়টি একবার তদন্ত করে মালিককে ভবনের বাড়তি অংশ অপসারণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এর পরেও ভবন মালিক কেন অপসারণ করেনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

অনুরুপ একই প্রসঙ্গে জানতে ভবন মালিক হাবিবুর রহমান খানকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net