স্বপন কুমার ঢালীঃ রোববার (২১ শে জুন) উত্তরগোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন। আর সেই দিনটাই সংঘটিত হতে যাচ্ছে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। সূর্য বেছে নিল চাঁদের আড়ালে মুখ লুকাতে। বাংলা
রোববারের সূর্যগ্রহণ পূর্ণগ্রাস নয়, বলয়গ্রাস। অর্থাৎ চাঁদের আড়ালে সূর্য পুরোপরি ঢাকা পড়বে না। যখন সূর্যগ্রহণের ষোলকলা পূর্ণ হবে, অর্থাৎ চাঁদের ছায়া পুরোটা ঢেকে যাবে, তখনও ছায়ার চারপাশে একটা উজ্জ্বল বৃত্ত দেখা যাবে। অর্থাৎ সূর্যটা তখন চাঁদের চারপাশে দেখা যাবে রিং বা বলয়ের মতো। এ কারণেই এ ধরনের গ্রহণের নাম বলয়গ্রাস।
বাংলাদেশ থেকে পূর্ণ বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে না , যাবে আংশিক দেখা যাবে । দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। জ্যোতিশাস্ত্রবিদদের মতানুসারে বাংলাদেশে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হবে সকাল ১১ টা ২৩ মিনিটে, শেষ হবে পৌনে দুটোয়। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাকে দুপুর ১টা ১২ মিনিটে। বাংলাদেশে সূর্যগ্রহণ শেষ হবে দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে। আর পৃথিবীতে গ্রহণ স্শর্শ ( আরম্ভ) সকাল ৯ টা ৪৬ মিনিটে। পুথিবীতে বলয়গ্রাস হইবে সকাল ১০ টা ৪৯ মিনিটে। াাা পৃথিবী থেকে গ্রহণ সমাপ্তি বিকাল ৩ টা ৩৪ মিনিটে।
বছরের একটা সময় চাঁদ পৃথিবী আর সূর্য একই সরল রেখায় চলে আসে। তখন যদি চাঁদ পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন সূর্যকে সরাসরি দেখা যায় না। চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়ে সূর্য। যদি সূর্য সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে তখন সেটাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব বা পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সারা বছর এক থাকে না- বাড়ে-কমে। এ কারণেই কখনো বলয়গ্রাস, কখনো পূর্ণগ্রাস আবার কখনো আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা দেয়।
যা বর্জন করা প্রয়োজনঃ
সূর্যের আলো না থাকায় এ সময় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অতি ক্ষুদ্র জীবানু প্রভাব বেশি থাকে। এ ছাড়া এ সময় সূর্যের আলো না থাকায় ম্যাগনেটিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। যার ফলশ্রুতিতে শরীরে বায়ো ম্যাগনেটিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ সময় নিঃসৃত ক্ষতিকর গ্যাসে বা খাবারে বিষে পরিনত করে।
সূর্যগ্রহণের সময় অনেকেই অতি উৎসাহী হয়ে খালি চোখে গ্রহণ দেখার চেষ্টা করেন। সূর্যগ্রহণ তো বটেই, যে কোনো সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো চোখের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ এ সময় আলফা, বিটা, গামারশ্মিসহ ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মিগুলোর প্রভাব বেশি থাকে। তাই সরাসরি না তাকিয়ে ফিল্টার গ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে, ওয়েল্ডিং করার সময় মেকানিকরা যে ধরনের গ্লাস ব্যবহার করেন, সেটাও ব্যবহার করা যেতে পারে। আথবা প্লেটে বা যেকোনো পাত্রে পরিষ্কার পানি নিয়ে তাতে কিছু পরিমাণ গুড়ো হলুদ মিশিয়ে সেই পানিতে সূর্যগ্রহণের প্রতিবিম্ব দেখা যেতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস বা চশমা পরে কেউ সূর্যগ্রহণ দেখতে যাবেন না। টেলিস্কোপ বা ক্যামেরার সাহায্যে সূর্যগ্রহণ দেখতে হলে অত্যাধুনিক ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। তা নাহলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি সরাসরি চোখের ওপর পড়ার সুযোগ পায়। সম্পূর্ণ অন্ধত্বসহ নানা রকম চোখের রোগ হতে পারে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply