এম. কে. রানা: ‘করোনা’ ভাইরাস। চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্ব। প্রতিদিন সমগ্র বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। মহামারী আকার ধারণ করায় এ ভাইরাসের প্রতিকার কি হতে পারে তা জানতে মানুষ গুগলে সার্চ দিচ্ছেন হাজার লাখো বার। স¤প্রতি একটি গবেষনায় দেখা গেছে গুগল সার্চের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘করোনা’। বিশ্বব্যাপী প্রিন্ট মিডিয়া অনেকটা থমকে দাড়িয়েছে। এ মুহুর্তে সবার চোখ অনলাইন পত্রিকাগুলোর দিকে।
ইন্টারনেটের কল্যাণে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও এখন সংবাদ সম্পর্কে অবগত। আর এ সুযোগে সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য অনলাইন পত্রিকার জন্ম হয়েছে। তবে ওই সকল অনলাইন পত্রিকার সংবাদের মান ও তথ্যের সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে অনলাইন গণমাধ্যম যতটা এগিয়েছে তার চেয়ে ঢের বেশি পিছিয়ে যাচ্ছে বা সংবাদের মান কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন মূলধারার সংবাদকর্মী এবং সংবাদ নিয়ে গবেষণা করেন যারা।
একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। দেশের উন্নয়নে যেমন গণমাধ্যমের ভুমিকা রয়েছে তেমনি গণতন্ত্র, সুশাসন তথা সমাজ গঠণেও গণমাধ্যমের ভুমিকা রয়েছে। তাছাড়া একটি দেশের ক্রান্তিকালে গণমাধ্যম অন্যতম ভুমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সঠিক তথ্য তুলে ধরে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভুমিকা অপরিসীম।
বর্তমান বিশ্বে মরণঘাতি করোনা ভাইরাসে সাড়ে লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে। ফলে মানুষের মাঝে অজানা এক আতংকের সৃষ্টি করেছে ‘করোনা’। আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যা প্রতিদিনই গণমাধ্যমের কারণে সমগ্র দেশবাসী আপডেট সংবাদ পাচ্ছে। যা বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকা, টেলিভিশনে প্রচার করছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা নিয়মিত তাদের ছাপা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। ফলে পাঠকগণ অনলাইন পত্রিকার সংবাদ নির্ভর হয়ে পড়ছেন। আর এ সুযোগে বাহারী সব নামে অনেক অনলাইন পত্রিকার জন্ম হয়েছে। এমনকি এ সুযোগে বিভিন্ন নামে আইপি টেলিভিশন ও অনলাইন পত্রিকার বিশেষ আলোচনা পর্বও প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু ওই সকল আইপি টেলিভিশন ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কারণে মাঝে মধ্যে তথ্য বিভ্রান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। কোথাও আবার সাংবাদিক পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার সংবাদও মাঝে মধ্যে পাওয়া যায়।
পেশাগত সাংবাদিকদের মতে, যে কোন সংবাদ প্রকাশের পূর্বে তথ্য যাচাই-বাছাই করা উচিত। যাতে সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। প্রতিযোগিতা না করে প্রয়োজনে দেরী হলেও সঠিক তথ্য উপস্থাপন করলে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করা যায়। তাদের মতে প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার জন্য মানুষকে ভুল তথ্য দেয়া যাবে না।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)’র গবেষণা বিশেষজ্ঞ (তথ্য প্রযুক্তি) ড. কামরুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনলাইন পত্রিকার কোন স্বিকৃতী নেই। সেক্ষেত্রে ওই সকল অনলাইন পোর্টালে কোন সংবাদ ছাপা হলে তার দায় দায়িত্ব তাদের। কেননা কিছু কিছু অনলাইনের সংবাদ দেখে মনে হয়, ফেসবুকে যেমন মানুষ তার নিজস্ব মতামত লিখে অনেকটা সেরকম। যার প্রতি কোনভাবেই বিশ্বাস করা যাবে না। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে আরো বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। অবশ্য অনলাইন পত্রিকাগুলো নীতিমালার আওতায় এলে নাম সর্বস্ব এসকল অনলাইন পত্রিকাগুলো এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে বলেন তিনি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply