শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:০৯

বিলুপ্তির পথে দক্ষিনের গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ‘ধান ভানি রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া। ঢেঁকি নাচে আমি নাচি, হেলিয়া দুলিয়া। ধান ভানি রে।’ গ্রামবাংলার তরুণী- নববধূ, কৃষাণীদের কণ্ঠে এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সাথে সাথে সেসব পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

 

 

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।একসময় ঢেঁকি ছিল গ্রামীণ জনপদে চাল ও চালের গুঁড়া বা আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে নতুন চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পড়ে যেত। সে চাল দিয়ে পিঠা-পুলি, ফিরনি, পায়েস তৈরি করা হতো। এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূজায় আগে ঢেঁকিতে ধান ভেনে আটা তৈরি করা হতো। তখন বধূরা ঢেঁকিতে কাজ করতো রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত খেতে খুব স্বাদ হতো।একসময় মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল ভেনে চিড়া-আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখরিত ছিল দক্ষিন বাংলার জনপদ।

 

 

কিন্তু এখন ঢেঁকির সেই শব্দ শোনা যায় না। তখন কবি- সাহিত্যিকগণ ঢেঁকি নিয়ে কবিতা ও গান লিখেছেন। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোথাও ঢেঁকির শব্দ নেই। ফলে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি ঢেঁকি। প্রত্যন্ত দক্ষিনের গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়িতে ঢেঁকি রাখলেও ব্যবহার করছে না। যন্ত্র আবিষ্কারের আগে ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিল। তেল বা বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল ভানার কারণে ঢেঁকি আজ কদরহীন।বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে ঘুরেও এখন ঢেঁকির দেখা মেলে না। ঢেঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেকেই জানান, আগে প্রায় সবার বাড়িতে ঢেঁকি ছিল।

 

 

সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনো মনে পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তির ফলে গ্রামবাংলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে। ঢেঁকি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য। শুধু তাই বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে সরকার। তার সাথে সাথে আবিষ্কারও হচ্ছে উন্নতমানের যন্ত্র।তাই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি ঢেঁকি। একপর্যায় বলা যায় বর্তমান যুগের তরুণী-নববধূরা ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি ঢেঁকি কি তা সর্ম্পকে কিছুই ধারনা নেই তাদের। এখন আর দক্ষিনঞ্চলের কোথাও দেখা যায়না ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি ঢেঁকি। দেখা যাচ্ছেনা এখন আর মা-বোনদের এক সাথে। তাই এ শিল্প রক্ষা এবং সংরক্ষণের জন্য সবার সহযোগিতা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net