
বিদ্যুৎ ঘাটতির রেশ ধরে বেশ কিছুদিনের বিরতির পরে বরিশাল অঞ্চলে পুনরায় লোডশেডিং ফিরে এসেছে। সান্ধ্যপিক আওয়ারে প্রায় ৮শ মেগাওয়াট এবং ডে-পিক আওয়ারে ৭শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত ৩ দিন ধরে ২৫-৩৩ ভাগ পর্যন্ত লোডশেড চলছে। অথচ এ অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি উৎপাদন ইউনিটগুলো থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
গত তিন দিন ধরে বরিশাল মহানগরীর ৬টি ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন থেকে মহানগরী ছাড়াও ঝালকাঠী জেলা সদরসহ কয়েকটি উপজেলাতে প্রায় দেড়শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে দিনরাতই ২৫-৩০ ভাগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছাঁটাই করা হচ্ছে। ফলে বরিশাল বিভাগীয় সদরের প্রতিটি এলাকাতেই ৩-৫ ঘণ্টা পরে এক ঘণ্টা করে লোডশেড করতে হচ্ছে।
ফলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো সুস্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নানামুখি সংকট তৈরি হচ্ছে। বছরের মাঝ সময়ে এসে স্কুলগুলোতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াও আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সাথে অভিভাবক মহলেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এমনকি শহরের চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সংকট আরো বেশি। অথচ বরিশাল বিতরণ অঞ্চলে প্রায় ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৬টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের চাহিদাই প্রায় সাড়ে ৫শ মেগাওয়াট। কিন্তু সেখানেই বিদ্যুৎ ঘাটতি সব সময়ই বেশি। এমনকি সাড়ে ৫শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পল্লী এলাকায় ঘাটতির পরিমাণ কখনো ২শ মেগাওয়াটও অতিক্রম করছে। অথচ এ অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ম ইউনিটটি থেকে এখন জাতীয় গ্রিডে ৫শ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
আকস্মিক এ বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং আরইবি’র একাধিক দায়িত্বশীল মহলে আলাপ করা হলে কেউই বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলতে না পারলেও সবাই জানিয়েছেন, যেকোনো কারণে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতির ফলেও জাতীয় গ্রিড থেকে বরিশাল অঞ্চলেও চাহিদার তুলনায় ২৫-৩০ ভাগ বিদ্যুৎ ঘাটতি চলছে।
তবে কবে নাগাদ চলমান এ লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে সম্পর্কে কেউই সুস্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও সোমবার সকাল ১১টার পরে এ অঞ্চলে কোনো বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply