খবর বরিশাল ডেস্ক : বরিশাল নগরীর প্রাণ-প্রকৃতির অন্যতম অংশ তিন জলাশয় এখন অবৈধ ভরাটের কবলে। কোথাও মাটি, কোথাও বালু ফেলে চলছে ভরাটের কাজ। একটিতে একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আরেকটিতে বিআইডব্লিউটিএর ডরমিটরি নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নথুল্লাবাদের ব্যক্তিমালিকাধীন একটি জলাধারের অর্ধেক ভরাট করা হয়েছে। এতে নগরীর পরিবেশ এবং জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পরিবেশবাদীদের দাবি, যে কোনো মূল্যে এসব জলাশয় রক্ষা করতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নগরীর বান্দ রোডে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে প্রায় ৮০ শতাংশের একটি জলাশয়ের একপাশে রাতে ট্রাকে করে মাটি ফেলা হচ্ছে। জানা গেছে, এটি ভরাট করে দুটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভুল করে জলাশয়ে মাটি ফেলা হয়েছে দাবি করে কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জলাশয় ভরাট করা হবে না। মাটি না ফেলতে আমি বলে দিয়েছি।’
একই সড়কের হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালের পাশে ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে রয়েছে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন আরেকটি জলাশয়। জানা গেছে, এটি ভরাট করে ডরমিটরি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে বালু ফেলে জলাশয়টির একাংশ ভরাট করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ভরাট করছি না। জলাশয়ের চারপাশে বাঁধাই করে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে।’
এছাড়া নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় তিন একরের একটি জলাশয় ভরাটের তথ্য পাওয়া গেছে। এই জলাধারটির প্রায় অর্ধেক ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে থাকা একটি সাইনবোর্ডে ক্রয়সূত্রে মো. আলী হোসেন হাওলাদারসহ পাঁচ মালিকের নাম রয়েছে। জমির মালিকদের একজন সাইদুর রহমান জলাশয় ভরাটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘জমির একটু জায়গা জলাশয়ে পড়েছে। কে ভরাট করছেন, তা জানি না।’ জমির আগের মালিক আলী হোসেন হাওলাদারও বলেন, ‘আমি কোনো জলাশয় ভরাট করিনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাতুল আহম্মেদ বলেন, বরিশালে এমনিতেই সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এরপরও একের পর এক জলাশয় ভরাট করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব জলাশয় রক্ষা করা।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, নগরীর জলাশয়গুলো বৃষ্টির পানি ধারণ, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ভরাট মানে নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর সরাসরি আঘাত।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘মেডিকেল কলেজের জলাশয় ভরাটের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় তা জেলা প্রশাসন দেখবে। বাকি দুটির একটিতে নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। অন্য জলাশয়টি রক্ষায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জলাশয় ভরাটের ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply