শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫৬

১১বছরেও বিধবা ভাতা পায়নি মাধবপাশার দিপা!

১১বছরেও বিধবা ভাতা পায়নি মাধবপাশার দিপা!

dynamic-sidebar

মজিবর রহমান নাহিদ / এইচ আর হীরা ॥ স্বামী মারা যাওয়ার পরে কত বার গেছি ইউনিয়ন পরিষদে, মেম্বারের বাড়িতে কিন্তু আইজ পর্যন্ত আমি বিধাব ভাতার একটা কার্ড পাইলাম না। আবেগপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের দিপা রানী রয়। গত ২০০৭ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চন্দ্রপাড়া গ্রামের রায় বাড়ির কমল রায়। স্বামী মারা গেছে ১১ বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতাসহ কোনো সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পায়নি দিপা। দীর্ঘ বছর ধরে দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের মধ্যদিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে ১৪বছরের পুত্রকে নিয়ে। অভাব সবসময় তার জীবনে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগেই থাকে। সহায় সম্বলহিন দিপা রানী খুপড়ি ঘর ছাড়া আর কিছুই নাই।

একমাত্র সন্তানটিকে দারিদ্র্যতার কারণে বহু কষ্টে লেখাপড়া করার দিপা। দিপা রানী বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। মাসে ১হাজার থেকে ২হাজার টাকা আয় করে কাজ করে। সে টাকা দিয়েই চলে মা ও ছেলের সংসার।

দিপা রানী বলেন, জমি-জমা কিছু নাই, এতো বছর কেউ একটু সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দেয় নাই, কত ছুটছি মেম্বার-চেয়ারম্যানগো দারে কোনদিনও একটু সাহায্য পাই নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি সব বিধবার দায়িত্ব নেছে কিন্তু আমার কপালে কি কিছুই জোটবেনা! আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করি যাতে আমি একটা বিধবা ভাতার কার্ড পাই।

২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির জানায়, আমাগো কাজ তালিকা করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে পাঠানো, এর পর আর আমাগো কোন কাজ নাই। আপনি এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি আপনারতো একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখার প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেম্বার হইছি তাতে কি ওনাগো পিছে পিছে ঘুরমু? সমাজসেবার মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কি করবে আমরা যদি এসব কাজ করি, আমাগতো আর কোন কাজ নাই যে এসব বিধবা আর অসহায়গো নিয়া পইরা থাকমু।

এদিকে শুধু দিপা রানীই নয় চন্দ্রপাড়া সহ পুরো মাধবপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের গাফিলতলির কারনে বেশ কয়েকজন বিধবা ভাতা পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net